চট্টগ্রামে তোড়জোড় শুধু আ.লীগেই

আপডেট : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০২:১৫ এএম

আসন্ন উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হতে চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এবার দলীয় প্রতীক না থাকার ঘোষণার পর থেকে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা দলের প্রভাবশালী নেতাদের আশীর্বাদ পেতে শুরু করেছেন তদবির। তবে অন্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো তৎপরতা নেই।

চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলার মধ্যে চার ধাপে ১৩টিতে ভোটের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব উপজেলা থেকে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে চান আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অন্তত দেড় শতাধিক নেতা।

বিভিন্ন উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এবারের নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকার ঘোষণার কারণে আওয়ামী লীগ থেকেই প্রতিটি উপজেলায় একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইতিমধ্যে প্রতিটি এলাকায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) ঘিরে নেতাকর্মীদের একটা বলয় তৈরি হয়েছে। আবার যেসব এলাকায় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে, সেখানে দলীয় নেতাকর্মীরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে আলাদা বলয় সৃষ্টি হয়েছে।

ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৪ মে চট্টগ্রামের তিনটি উপজেলায় ভোট হবে। এগুলো হলো মিরসরাই, সীতাকু- ও সন্দ্বীপ। মিরসরাই উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দুটি ধারা চলে আসছে। এর মধ্যে বৃহৎ ধারাটি আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের অনুসারীদের। অন্যটি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন অনুসারীদের। সদ্যসমাপ্ত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে মাহবুবুর রহমান রুহেলের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরেছেন গিয়াস উদ্দিন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের ধারণা, সামনের উপজেলা নির্বাচনেও এর রেশ থাকবে। তবে নির্বাচনে মোশাররফ হোসেনের বলয় থেকে একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের মধ্যে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান জসীম উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও যুগ্ম সম্পাদক এনায়েত হোসেন নয়নের নাম আলোচনায় রয়েছে।

সীতাকু- উপজেলা চেয়ারম্যান এসএম আল মামুন পদত্যাগ করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। নারী ভাইস চেয়ারম্যান জয়নব বিবি জলি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী নির্বাচনে সেখানে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন সাবেরী, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আ ম ম দিলশাদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেহান উদ্দিনের নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে প্রার্থী যারাই হোক, এমপি মামুনের সমর্থন যার প্রতি থাকবে তিনিই নির্বাচনে এগিয়ে থাকবেন এমনটাই ধারণা স্থানীয়দের।

মাত্র ৯ মাস আগে উপনির্বাচন হয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিজ এলাকা সন্দ্বীপ উপজেলায়। ওই নির্বাচনে জয়ী হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী মাঈন উদ্দিন। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন একই দলের ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ রফিকুল ইসলাম, জাসদের আবুল কাশেম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মশিউর রহমান। কিন্তু নির্বাচনের আগে আবুল কাশেম ও মশিউর রহমান আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় মূল লড়াইটা হয়েছিল বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুলের সঙ্গে। আগামী নির্বাচনে তারা দুজন ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে চট্টগ্রামের এ তিন উপজেলার পর ১১ মে দ্বিতীয় ধাপে নির্বাচন হবে চার উপজেলায়। এগুলো হলো রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি ও রাউজান উপজেলা। ২৫ মে চতুর্থ ধাপে বাঁশখালী ও লোহাগাড়া উপজেলায় নির্বাচন হবে। মেয়াদ শেষ না হওয়ার কারণে সাতকানিয়া ও কর্ণফুলী উপজেলায় নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এবারের উপজেলা নির্বাচনে দলীয় কোনো প্রার্থী থাকবে না। দলীয়ভাবে আমাদের পক্ষপাত থাকবে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত