কূটনৈতিক বক্তব্য

‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’

আপডেট : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৩২ এএম

প্রয়োগের দিক থেকে দেখলে কূটনৈতিক বক্তব্য কিংবা কূটনৈতিক ভাষা আসলেই কূটনৈতিক। কোনো একটা পরিস্থিতিকে ঘিরে আমরা বিভিন্ন পক্ষের নানারকম কূটনৈতিক বক্তব্য দেখি। সেই বক্তব্যগুলো কখনো কখনো স্পষ্ট, আবার কখনো কখনো অস্পষ্টতা থাকে, কখনো আবার এটা স্পষ্ট নাকি অস্পষ্ট সেটা বোঝাই খুব মুশকিল হয়ে যায়। এখানে কোন পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক বক্তব্যটি দেওয়া হচ্ছে সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। যে পরিস্থিতির উদ্ভব হওয়ায় কূটনৈতিক বার্তা আসছে, দেখতে হবে সিচুয়েশনটা কোন পক্ষের বা কার নিয়ন্ত্রণে বা পরিস্থিতির সঙ্গে কে বা কারা কীভাবে সংযুক্ত। যে বা যাদের নিয়ন্ত্রণে বা যে যেভাবে সংযুক্ত তার বক্তব্যটা তার ওপর নির্ভর করে সরাসরি হয়। মানে প্রত্যক্ষভাবেই সে বা তারা বিবৃতি, বক্তব্য দেয়। অন্যদিকে কূটনৈতিক বার্তা বা বক্তব্যে যদি প্রচ্ছন্ন কিছু না থাকে, তাহলে বুঝতে হবে সেখানে তারা অস্পস্ট অবস্থান নিচ্ছে।  

আমরা যদি স্নায়ু যুদ্ধের সময়টা দেখি একদিকে সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতৃত্বে কমিউনিস্ট বিশ্ব এবং অন্যদিকে ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এবং পশ্চিমা রাষ্ট্রের নেতৃত্বে নন কমিউনিস্ট ওয়ার্ল্ড কিংবা পুঁজিবাদী বিশ্ব। ওই সময় নিয়ে যদি আমরা চিন্তা করি তখন কিছু কিছু ক্ষেত্রে ¯স্নায়ু যুদ্ধের কারণে অবস্থানগুলো খুব স্পষ্ট ছিল। যার ফলে কূটনৈতিক যে বয়ানগুলো আসত, ঘটনাগুলো নিজেদের মতাদর্শিক সমর্থকদের মধ্যে না ঘটে যদি মতাদর্শিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে ঘটত তাহলে খুব স্বাভাবিকভাবেই বক্তব্যটা খুব স্পষ্টই হতো। অর্থাৎ প্রতিপক্ষ যখন স্পষ্ট থাকে তখন বক্তব্যও স্পষ্ট হয়, কোল্ডওয়ারের সময় আমরা এই প্রবণতাটা দেখেছি। তখন সেখানে বিভাজনটা স্পষ্ট ছিল, সুস্পষ্ট মতাদর্শিক অবস্থান থাকত। ফলে তখন ওই বাইপোলারাইজেশনের সময়টায় বোঝা খুব সহজ ছিল যে, কে কোন পক্ষ নিচ্ছে। তবে কখনো কখনো ওই সময়ও ব্যতিক্রম হতো, যখন বিষয়গুলো নিজেদের মধ্যে ঘটত। যেমন সোভিয়েত ইউনিয়নের কোনো মিত্রদেশের সঙ্গে যখন কোনো কিছু ঘটছে কিংবা সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন হাঙ্গেরিকে আক্রমণ করল ৫০-এর দশকে তখনকার বয়ানটার ক্ষেত্রে আমরা এমন দেখতে পাব। সোভিয়েত ইউনিয়নের যেহেতু তখন মতাদর্শিক এবং তার এই আক্রমণের পক্ষে সমর্থন প্রয়োজন তখন সে বয়ানটা একভাবে তৈরি করে। যেন জনসমর্থন কিংবা বিশ্ব জনমত আদায় হয়, সেভাবে বয়ানটা সে তৈরি করে। ফলে সেই সময়ে একটা সুবিধা ছিল যে, শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করাটা খুব সহজ ছিল। যার ফলে কূটনৈতিক ভাষার ক্ষেত্রেও স্পষ্টতা কিংবা স্পষ্ট অবস্থানের প্রকাশ আমরা খুব সহজভাবেই দেখতাম।

একইভাবে ¯স্নায়ু যুদ্ধের একদম শেষ হওয়ার পরবর্তী সময়ে আমরা দেখলাম, মতাদর্শগত প্রতিপক্ষ নেই, বিশ্ব রাজনীতিতে মতাদর্শিক বিভাজন নেই। উদারতাবাদী যে মতাদর্শ সেটা জনপ্রিয় হয়ে উঠল। এই যে মুক্ত বাজার কিংবা ডেভেলপমেন্ট, বিশ্বায়ন সেগুলো কূটনৈতিক ভাষায় খুব বেশি জোড়ালো এবং প্রকট হয়ে উঠতে থাকল। এখন মতাদর্শিক বিভাজনটা না থাকার কারণে বিশেষ করে আমরা নয়/এগারোর আগ মুহূর্তে এবং পরে আমরা দেখেছি এই শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করাটা খুব একপাক্ষিক হয়ে গেল। যার জন্য তখন জুনিয়র বুশ স্পষ্টতই বলেছিল, ‘হয় তুমি আমার পক্ষে অথবা আমার শত্রু।’ এ জন্য কূটনৈতিক বক্তব্য ও ভাষা বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্রেক্ষাপটটা বুঝতে পারা। সেই প্রেক্ষাপটের ওপর ভিত্তি করে আসলে এই বক্তব্যগুলো তৈরি হয়। এই বক্তব্যের সঙ্গে অবশ্যই একটা রাষ্ট্রের শক্তিগত অবস্থান কিংবা তার রাজনৈতিক মিত্র, প্রতিপক্ষের সমর্থন এগুলো বিবেচনা করেই কূটনৈতিক বক্তব্যগুলো সামনে আসে।

বিভাজন যখন স্পষ্ট থাকে তখন কূটনৈতিক ভাষায় সেই স্পষ্টতা দেখা যায়। এখনকার সময়ে বিশেষ করে বিশ্বরাজনীতিতে চীন, ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার ভূমিকাগুলোও যদি দেখি আবার ইউরোপীয় শক্তিগুলোর ভূমিকাও যদি দেখি সে ক্ষেত্রে ইউক্রেন ইস্যুটা একটা বড় উদাহরণ হতে পারে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকে ঘিরে আমরা যে রাজনৈতিক কৌশলগত মেরুকরণটা দেখলাম সেটা খুবই কৌতূহল উদ্দীপক। ভারতের কথাই ধরি। এই যুদ্ধে ভারতের অবস্থান এবং জাতিসংঘের জেনারেল এসেম্বলিতে যদি তাদের ভূমিকা বেশ প্রণিধানযোগ্য। রাশিয়া, চীন, ভারতের অবস্থান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ক্ষেত্রে একই রকম ছিল। আবার আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার কোনো ইস্যুতে তাদের অবস্থানগত ভূমিকা ও আচরণ ভিন্ন। এখানে ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক। এখানে তার বক্তব্য ও অবস্থানে কিন্তু ভিন্নতা পাওয়া যায়। ভারত বৈশ্বিক পর্যায়ে রাশিয়া, চীনের সঙ্গে কিংবা একই মেরুতে অবস্থান করছে আবার দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষেত্রে যেহেতু চীন তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং সেই জায়গায় তার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরও একটা জোড়ালো সাধারণ সম্পর্ক থাকছে। কারণ চীন দুজনেরই প্রতিপক্ষ। বিশ্বরাজনীতিতে চীন হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। আবার ভারতের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়া এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে চীন তার একটা শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। ফলে এখানে যে বয়ানগুলো হয় চীনকে ঘিরে বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির ক্ষেত্রে তখন এক ধরনের কূটনৈতিক বক্তব্য দেখি আবার বিশ্বরাজনীতির ক্ষেত্রে সেটা ভিন্ন ধরনের দেখি। তার মানে বয়ানগুলো এখন স্পষ্ট অবস্থান নির্দেশ করতে পারে না। এখন বৈশ্বিকভাবে যূথবদ্ধ হওয়াটা মতাদর্শিক না, অনেক বেশি অর্থনৈতিক স্বার্থনির্ভর। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রেজিমের স্বার্থটাও খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে গেছে। এখনকার বিশ্বরাজনীতির যে পরিস্থিতি তাতে জাতীয় স্বার্থ এবং রেজিম স্বার্থ মিলেমিশে যাওয়ার কারণে এই বয়ানগুলোতেও খুব স্পষ্টতা নেই। কে কার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, কখন নিচ্ছে সেগুলো অনেক বেশি এখন প্রেক্ষাপট নির্ভর; যেহেতু মতাদর্শিক একটা শূন্যতা আছে। যার ফলে কূটনৈতিক বক্তব্য বোঝার ক্ষেত্রে কনটেক্সটগুলো বোঝা খুব জরুরি। যেমন আমরা অনেক সময় বলেছি যে, আমরা মিয়ানমারের পরিস্থিতির ওপর সার্বিক পর্যবেক্ষণ করছি। তার মানে হচ্ছে মিয়ানমার পরিস্থিতিটা আমরা কীভাবে সামলাবো সেই বিষয়ে অনেক ধোঁয়াশা রয়েছে। আমরা মনে করি যে, এখানে আমাদের একটা স্পষ্ট অবস্থানের প্রকাশ বিশ্বরাজনীতি কিংবা আঞ্চলিক রাজনীতিতে আমাদের জন্য একটা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, ফলে এই ধোঁয়াশাপূর্ণ বক্তব্য। মানে ‘ধরি মাছ, না ছুঁই পানি’ তেমন আর কী।

দিন শেষে বিশ্বরাজনীতি যে শক্তির রাজনীতি, সেই শক্তির রাজনীতিতে রাষ্ট্রের অবস্থান কী তার ওপর নির্ভর করেই এই কূটনৈতিক বার্তা ও বক্তব্যের বয়ানগুলো তৈরি হয়। যার ফলে এই বয়ানগুলো শুনেই চট করে আমরা কোনো উপসংহারে পৌঁছাতে পারি না, কোনো মন্তব্যও করতে পারি না যতক্ষণ না ওই প্রেক্ষাপটটাকে আমরা বিবেচনা না করি। বিষয়গুলো খুব সহজ সরলভাবে ব্যাখ্যা করাটা আমার কাছে মনে হয় খুব বিপজ্জনক। সে জন্যই এটার অন্তরালে অন্য কি ঘটনা ঘটছে কিংবা একটা রাষ্ট্র কেনো ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ অবস্থান নিল সেটা বোঝার মধ্যে দিয়েও কূটনৈতিক বক্তব্যগুলো পড়া যায়। মিয়ানমারের ক্ষেত্রেও ঠিক একই রকম; এখানে যেহেতু চীন এবং ভারতের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট আছে। এবং বাংলাদেশের সঙ্গেও চীন, ভারতের সম্পর্ক খুবই শক্তিশালী। সে ক্ষেত্রে মিয়ানমার ইস্যুতে আমাদের অবস্থান কী হবে এটার স্পষ্টতা যদি আমাদের তৈরি হয় তাহলে হয় চীন না হয় ভারতের যে কারোরই আমাদের ওপর আস্থাটা নষ্ট হতে পারে। সুতরাং এ রকম পরিস্থিতিতে যাতে আস্থা নষ্ট না হয়, সে জন্য আমরা সাধারণত এই ‘ধরি মাছ না ছুঁই পানি’ অবস্থান নেই। যাতে সব পক্ষকেই আস্থায় রাখা যায় অথবা কোনো পক্ষের সঙ্গেই যেন কোনো অনাস্থা তৈরি না হয়। যার ফলে কূটনৈতিক ভাষা কিংবা বক্তব্যে খুব সহজ সরলভাবে গ্রহণ করা আমার কাছে মনে হয় সবসময় সঠিক বাস্তবতাটাকে প্রতিফলন করে না।

কূটনৈতিক বার্তার অন্তরালের ঘটনা প্রসঙ্গে ‘ফিলিস্তিন-ইসরায়েল’ চলমান সংকটের কথাও বিবেচনায় আনা যায়। গাঁজা ইস্যুতে ইসরায়েলকে থামাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কড়া বিবৃতিতেও ইসরায়েল সেটা আমলেই নিচ্ছে না। এটা বুঝতে হলে প্রথমে ইসরায়েল-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কটা বুঝতে হবে। প্রশ্ন উঠতে পারে, বিবৃতির মাধ্যমে অনেক সময় রাষ্ট্র দায়মুক্তির পথ তৈরি করে রাখে কিনা। এখানে বলব, বিবৃতির মধ্য দিয়ে দায়মুক্তির চেয়ে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা হয়। গাজায় শিশু ও নারী হত্যার বিষয়টি সবাইকে বিচলিত কলে তুললে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে একটা কূটনৈতিক বক্তব্য ও ইসরায়েলকে একটা বার্তা দিল। কিন্তু এই পাবলিক বক্তব্যের আড়ালে কী ঘটছে সেটা তো আমরা জানি না। এখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো একটা শক্তিশালী রাষ্ট্র যখন এক রকম বলছে যেখানে ইসরায়েল ভিন্নরকম করছে সেখানে কিছু তো রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যেটা বলছে সেটা বাস্তবে প্রয়োগ করছে কিনা সেটার নিশ্চয়তা কিন্তু নেই এবং বাস্তবে প্রয়োগ করছে কিনা সেটার নিশ্চয়তা কিন্তু নেই। বাস্তবে যে প্রয়োগ করছে না তার উদাহরণ তো আছেই। এই যে তাদের প্যাকেজ চুক্তিগুলো হচ্ছে অস্ত্র কেনার এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অর্থ সাহায্য ইসরায়েলকে দিচ্ছে তাতে মৌখিকভাবে যাই বলুক না কেন, প্র্যাকটিক্যালি সে কিন্তু এখানে অবস্থান নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই বিবৃতিগুলো বিশেষ করে যুদ্ধ বা অস্ত্রবিরতি নিয়ে সেটা অনেকটাই আমার কাছে মনে হয় কসমেটিক। ইসরায়েলও জানে এটা বিশ্ব জনসমর্থন যাতে খুব বেশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী না হয়ে যায়, সেই বিবেচনা থেকে অয়েন্টমেন্ট দেওয়া। দিন শেষে আড়ালে কিন্তু অন্য কিছু নিশ্চয়ই ঘটছে, কেননা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলার পরও ইসরায়েল যখন এটাকে বিবেচনায় নিচ্ছে না তার মানে বাস্তবতা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল এই কাজটা জেনে বুঝেই করছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক বক্তব্য কোনো ভূমিকা রাখতে পারে কিনা। পরিস্থিতির উদ্ভব হলে সেটাকে স্বাভাবিক করতে কূটনৈতিক বিবৃতি কখনো কখনো ভূমিকা রাখে, এই আস্থাটা কখনো কখনো তৈরি করে। যেমন ১৯৬২ সালে যখন কিউবান মিসাইল ক্রাইসিস তৈরি হয়েছিল তখন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেসব বিবৃতির আদান-প্রদান হয়েছিল সেটা পরিস্থিতি সামলানো সহজ করেছিল। ওই সময় তাদের মধ্যে যেসব বিবৃতি ও হটলাইন আলাপ আদান-প্রদায় হয় সেটা নিউক্লিয়ার ওয়ার থেকে ফেরাতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিল। কাজেই কখনো কখনো এটা খুব কার্যকর হয়। কিন্তু এই কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে খুব গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে যে, যারা এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, প্রতিযোগিতায় লিপ্ত থাকে তাদের শক্তির ভারসাম্য।

লেখক : অধ্যাপক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগ  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

অনুলিখন : মোজাম্মেল হক হৃদয়

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত