স্বাস্থ্য বাজেটের এমন বিশাল বৃদ্ধি নজিরবিহীন: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার

আমাদের বিদ্যমান বাজেট, ওষুধ ও সরঞ্জামাদির সঠিক প্রয়োগ এবং চরম দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে কোনো অতিরিক্ত সহযোগিতা ছাড়াই বর্তমান স্বাস্থ্যসেবার মান অন্তত ২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত করা সম্ভব।

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, 'বিশ্বের ইতিহাসে কোনো উন্নয়নশীল দেশ এক বছরের ব্যবধানে তাদের স্বাস্থ্য বাজেটে ৩৫ থেকে ৩৭ শতাংশ অর্থায়ন বাড়াতে পেরেছে বলে আমার জানা নেই। তবে বাংলাদেশে এবার স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১.১০ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা একটি অভূতপূর্ব পদক্ষেপ।'

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বরিশাল নগরীর হোটেল গ্র্যান্ড পার্কের সাউথ গেট হলে আয়োজিত ‘সমন্বিত ইপিআই, এইচপিভি, ওপেন এসআরপি ও স্বাস্থ্য কর্মসূচি’ সংক্রান্ত বিভাগীয় পর্যালোচনা কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়, বরিশাল কর্তৃক আয়োজিত এই কর্মশালায় সার্বিক সহায়তা প্রদান করে ইউনিসেফ। এছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, গ্যাভি এবং গেটস ফাউন্ডেশন এতে সহায়তা করে।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে সরকারের স্বাস্থ্য খাতের অগ্রাধিকার তুলে ধরে আরও বলেন, 'শুধু বাজেট বাড়ানোই শেষ কথা নয়, সেই অর্থের শতভাগ সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের বিদ্যমান বাজেট, ওষুধ ও সরঞ্জামাদির সঠিক প্রয়োগ এবং চরম দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে কোনো অতিরিক্ত সহযোগিতা ছাড়াই বর্তমান স্বাস্থ্যসেবার মান অন্তত ২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত করা সম্ভব।'

মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের পরিকল্পনা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট, ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং সিএইচসিপি-দের নিয়ে একটি একক ‘কম্বাইন্ড কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার’ কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এরা প্রতি ২-৩ মাস পর পর প্রতিটি পরিবারের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করবে। এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ ও প্রয়োজনীয় হাব গঠন, ডিজিটাল স্বাস্থ্য কার্ড এবং সমন্বিত রেফারেল সিস্টেম চালুর মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হবে।”

কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. প্রবাথ চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, 'মাঠপর্যায়ের সকল প্রস্তাবনা ও সুপারিশসমূহ বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সবাইকে সাথে নিয়ে প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমরা কাজ করছি।' তিনি তার বক্তব্যের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন এবং সভাপতি হিসেবে বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ড. মো. রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালায় বিভাগের বিভিন্ন উপজেলার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাগণ  মাঠপর্যায়ের নানা চিত্র ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত