সবার আগে ফাইনালে ‘চ্যাম্পিয়ন’ কুমিল্লা

আপডেট : ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১০:২৯ পিএম

বিপিএলের দশম আসরের ফাইনালে পৌঁছানোর মহারণে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ৬ উইকেটে হারিয়েছে রংপুর রাইডার্সকে, নিশামের ৪৯ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংসটা ম্লান হয়ে গেছে তাওহীদ হৃদয় (৬৪) আর লিটন কুমার দাসের (৮৩) হাফসেঞ্চুরিতে।

টস জিতে কুমিল্লার অধিনায়ক লিটন বেছে নিয়েছিলেন বোলিং। রাতের ম্যাচ, শিশির সবকিছু মিলিয়ে যে সিদ্ধান্তটা অনুমিতই। রংপুর চমকে দিতে চেয়েছিল শামীম পাটোয়ারীকে ইনিংসের সূচনায় পাঠিয়ে। তানভীর ইসলামের বলে সোজা বোলারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন শামীম, তানভীর সেটা ধরার চেষ্টায় ‘ফিস্ট’ করে দেন গোলকিপারের মতো। মিড অফে থাকা আন্দ্রে রাসেল বলটা দৌড়ে এসে লুফে নেওয়াতে শূন্য রানেই ফিরতে হয় শামীমকে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে আসা রোহনাত দৌলা বর্ষণকে কাল মাঠে নামিয়েছিল কুমিল্লা, নিজের প্রথম ওভারেই বর্ষণ নেন রনি তালুকদারের উইকেট (১৩)। এরপর সাকিব আল হাসানও আন্দ্রে রাসেলের বলে ফাইন লেগে বর্ষণের হাতেই ক্যাচ দেন (৫)। পাঁচ ওভারের ভেতর ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা রংপুরকে কিছুটা অক্সিজেন জোগায় শেখ মেহেদির ১৭ বলে ২২ রানের ইনিংস। ৯ বলে ১৪ রান করে বিদায় নেন নিকোলাস পুরানও। কিন্তু থামিয়ে রাখা যায়নি নিশামকে। বিশাল বিশাল ছক্কায় রানের চাকাটা জোরালো গতিতেই সচল রাখছিলেন নিশাম। পাওয়ার-প্লে থেকে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৩৫ রান তোলা রংপুর ১২.৫ ওভারেই পৌঁছে যায় দলীয় ১০০ রানে। নিশামের হাফসেঞ্চুরি ৩১ বলে, চারখানা চার আর তিনখানা ছক্কায়।

অন্যপ্রান্তে সঙ্গী বদল হলেও নিশাম দমে যাননি। পুরানের পর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান (২৪ বলে ৩০) যখন বিদায় নেন তখন শেষ ওভারে স্ট্রাইকে নিশাম, ব্যক্তিগত রান ৭১। প্রায় ২৬ হাজার দর্শক তখন ‘নিশাম, নিশাম’ ধ্বনি তুলছে। ৪, নো বলে ৪, ৬, ৬, ডট এবং ৬Ñ মুশফিক হাসানের করা প্রথম ছয় ডেলিভারি থেকে নিশামের ২৬ রান। শেষ বলের আগে নিশামের ৯৬, পুরো গ্যালারি অপেক্ষায় আরেকটা চার বা ছয়ের। কিন্তু মুশফিকের শেষ ডেলিভারিটায় ঠিক ব্যাটে-বলে হয়নি, মিড উইকেটের দিকে মাটিতেই পড়ল বলটা, নিশাম দৌড়ে নিলেন ১ রান। ৯৭ রানে অপরাজিত থেকেই ইনিংস শেষ হল এ কিউইর। ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি ইনিংস খেলে সেঞ্চুরির খুব কাছে এসেও হাতছোঁয়া দূরত্বে থেকেই থামতে হলো নিশামকে।

কিউই অলরাউন্ডারের তাণ্ডবের বড় শিকার মুশফিক হাসান। চার ওভারে এই পেসার রান দিয়েছেন ৭২! ২৪ বলে ৭২ রান অর্থাৎ গড়ে প্রতি বলে দিয়েছেন ৩ রান, যা বিপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে খরুচে বোলিং। ১৩ ফেব্রæয়ারি চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের হয়ে চার ওভারে ৬৯ রান দিয়েছিলেন আল-আমিন হোসেন, তাকে কলঙ্কমুক্ত করলেন মুশফিক।

সুনিল নারাইন শূন্য রানে আউট হলেও ওয়ান ডাউনে লিটন আর তাওহীদ হৃদয়ের ৮৯ বলে ১৪৩ রানের জুটিই জয়ের কক্ষপথে রাখে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানসকে। শেষদিকে এ দুজনে আউট হলেও বাকি কাজটা সহজেই সেরেছেন আন্দ্রে রাসেল ও মইন আলি। ১৮.৩ ওভারে ৬ উইকেট ও ৯ বল হাতে রেখেই রংপুরের রান টপকে পঞ্চমবারের মতো ফাইনালে পৌঁছে যায় কুমিল্লা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত