১৫ শতাংশ কর দিতেই হবে

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:০৮ এএম

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে আয়কর (ট্যাক্স) আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দুই প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করেছে সর্বোচ্চ আদালত। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল নিষ্পত্তি করে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি বোরহান উদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেয়।

বেঞ্চের অন্য তিন বিচারক হলেন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম, বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী। সর্বোচ্চ আদালতের নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিকেল, ডেন্টাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এখন থেকে তাদের আয়ের ১৫ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হবে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

২০০৭ সালের ২৮ জুন এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদিত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং অপরাপর বিশ্ববিদ্যালয়, যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নয়, তাদের উদ্ভূত আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে আয়কর পুনর্নির্ধারণ (ওই বছরের ১ জুলাই থেকে) করা হলো। তবে মেডিকেল, ডেন্টাল, ইঞ্জিনিয়ারিং ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষাদানে নিয়োজিত প্রাইভেট কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আয়করমুক্ত হবে। অবশ্য এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রতি বছর যথারীতি নিরীক্ষিত হিসাব বিবরণীসমেত আয়কর বিবরণী দাখিল করতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। পরে ২০১০ সালের ১ জুলাই এনবিআরের আরেকটি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ বা শুধু তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানে নিয়োজিত বেসরকারি কলেজের উদ্ভূত আয়ের ওপর প্রদেয় আয়করের হার কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলো।

দুটি প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষে ২০০৮ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত হাইকোর্টে ৪৬টি রিট আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট এক রায়ে ১৫ শতাংশ হারে আয়করের প্রজ্ঞাপন অবৈধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে দুই প্রজ্ঞাপন অনুসারে আদায় করা আয়করের অর্থ ফেরত দিতে এনবিআরকে নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ৪৪টি লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করে। এরপর ২০২১ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আপিল শুনানির অনুমতি দেয় আপিল বিভাগ। শুনানি শেষে গতকাল চূড়ান্ত রায় হলো।

এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ বিশ্বাস। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এএফ হাসান আরিফ, ফিদা এম কামাল ও প্রবীর নিয়োগী। সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার ওমর সাদাত।

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের মূল বক্তব্য ছিল যে, রাষ্ট্রের যেকোনো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য টাকার প্রয়োজন এবং এটি আসে ট্যাক্স বা কর থেকে। ট্যাক্স আহরণটা একটা গুরুত্বপূর্ণ দৈনন্দিন কাজ। এটা না হলে রাষ্ট্র পরিচালিত হতে পারে না। আয়কর অধ্যাদেশে সবার জন্য ট্যাক্সটা ধার্য করা আছে। এর আগে তাদের (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) ২৫ শতাংশ থেকে অব্যাহতি দিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়।’ রাষ্ট্রের প্রধান এ আইন কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ট্যাক্স দিতে হয় না। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নিজেরা একটা গ্রুপ। ইতিপূর্বে একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছিল যে, বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে যেখানে পার্থক্য নিরূপণ করা যায়, সে ক্ষেত্রে বলা যাবে না যে একজনের সঙ্গে আরেকজনের বৈষম্য হয়েছে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে এএম আমিনউদ্দিন বলেন, ‘এ ট্যাক্সের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কোনো সম্পর্ক নেই। ভ্যাট হলে সম্পর্ক থাকত। শিক্ষার্থীরা কোনো ট্যাক্স দেবে না। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় যা আয় করবে অর্থাৎ তাদের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে ট্যাক্স দিতে হবে।’

অন্যদিকে রিটকারী পক্ষের আইনজীবী ওমর সাদাত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের যুক্তি ছিল, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। সেখানে আয় নেই। পরিচালনা করতে গিয়ে যে টাকা উদ্বৃত্ত থাকবে সেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থেই ব্যয় করতে হবে। এখন যেখানে আয় নেই সেখানে আয়করের প্রসঙ্গ কেন আসবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়টি বাতিল করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আপিল কিন্তু নিষ্পত্তি করেছেন, মঞ্জুর করেননি। তাই পূর্ণাঙ্গ রায়ে কী থাকে সে পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত