বালিয়াকান্দি নির্বাচন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ

আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৬:২০ পিএম

জাতীয় পরিচয়পত্রে ছোট-বড় ভুল সংশোধনী মানেই চরম দুর্ভোগ। দিনের পর দিন এমনকি মাসের পর মাসেও সমাধান মিলছে না, এমন অভিযোগ বেশ পুরাতন। তবে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদুর রহমান যোগদানের পর নাগরিক হয়রানি যেন বেড়ে গিয়েছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জাতীয় পরিচয়পত্র নষ্ট কিংবা রি-ইস্যু আবেদনেও করতে হবে জিডি, স্বশরীরে আসতে হবে অফিসে। উপজেলা নিবার্চন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইদুর রহমান গত বছরের ডিসেম্বর মাসে বালিয়াকান্দিতে যোগদান করেন। 

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নতুন কর্মকর্তা যোগদানের পর থেকে ভোগান্তি বেড়েছে। নতুন ভোটার নিবন্ধন, ভোটার স্থানান্তর, রি-ইস্যুর আবেদন পরবর্তী একাধিকবার স্বশরীরে অফিসে আসতে বাধ্য হচ্ছেন সেবাগ্রহীতারা, একাধিকবার ঘুরেও তারা তাদের প্রাপ্য সেবা পাচ্ছেন না।  

ভুক্তভোগী গিফ্ফারী বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র নষ্ট দেখিয়ে ২৩০ টাকা ফিসহ যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করি। জরুরি পাসপোর্ট করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র প্রয়োজন হওয়ায় মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) আবেদনের একটি কপি নিয়ে বালিয়াকান্দি নির্বাচন অফিসে যাই। নির্বাচন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, জিডির কাগজ ছাড়া অনুমোদন হবে না। 

ভুক্তভোগী গিফফারীর অভিযোগ, আমার কোনো কথাই শুনতে চাননি তিনি। পুনরায় বুধবার জিডির কাগজ নিয়ে অফিসে গেলে নির্বাচন কর্মকর্তাকে পাই না। গিফারী বলেন, অথচ পাসপোর্ট অফিস সংলগ্ন দোকানে নম্বর দেয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই জাতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়। আমি যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করেই হয়রানির শিকার হয়েছি।

রাজবাড়ী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম বলেন, হারানো কিংবা নষ্ট জাতীয় পরিচয়পত্র পেতে অনলাইনে আবেদন করলেই হবে। অফিসে স্ব-শরীরে উপস্থিত হওয়া কিংবা জিডির কপি দেয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। আর সংশোধনী অনুমোদন দীর্ঘসূত্রিতা নির্দিষ্ট করে দেখে বলতে হবে কেন পড়ে আছে।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক উদ্যোক্তা বলেন, বর্তমান নির্বাচন কর্মকর্তা হারানো কার্ডের জন্য যথাযথ ভাবে সরকারি ফি দিয়ে আবেদন করে অফিসে না গেলে অনুমোদন দেন না। ফলে সেবাগ্রহীতাদের সাথে আমাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। অথচ বাজারের কতিপয় কম্পিউটার ব্যবসায়ী আছেন যারা শুধুমাত্র নম্বর নিয়েই জাতীয় পরিচয়পত্র বের করে বেশি টাকা লাভ করে। 

ভুক্তভোগী রাশেদুজ্জামান শুভ বলেন, গত বছরের ২২ অক্টোবর জাতীয় পরিচয়পত্রের ‘ডাকঘর’ ভুল সংশোধনের আবেদন করি। সংযুক্ত হিসেবে জন্মসনদপত্র, নাগরিক সনদপত্র, চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রত্যয়ন পত্র, পিতার জাতীয় পরিচয়পত্রসহ আরও কয়েক ধরনের কাগজপত্র জমা দেই। ৩৫০ টাকা ফি দিয়ে ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও ছোট্ট ভুল শুধরাতে পারিনি। অনেকবার বালিয়াকান্দি নির্বাচন অফিসে গিয়েছি কাজ হয়নি। 

আরেক ভুক্তভোগী বলেন, নামের শেষ অংশে হোসেন এর স্থলে হোসাইন করার জন্য তিন মাস আগে আবেদন করে চারবার অফিসে গিয়েও কর্মকর্তাকে পাইনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেন, মাঠ পর্যায়ের কিছু অদক্ষ কর্মকর্তার কারণেই রি-ইস্যু আবেদন দিন দিন কমছে। ফলে অনেক কম্পিউটার ব্যবসায়ী অসাধুচক্রের থেকে নম্বর দিয়েই কার্ড নিয়ে থাকে। যারা বিধিমোতাবেক আবেদন করেন তারাও অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রিতায় হতাশ হন। সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের দায়িত্ব অবহেলাকারী কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা ভাবছে ইসি।

শুধুমাত্র ইংরেজি নামে ‘আই’ অক্ষর যোগ করার জন্য সংশোধনের আবেদন করেন সামাদ শেখ। তিনি বলেন, প্রায় ৪ মাস আগে আবেদন করেছি। এসএসসি সনদ সংযুক্ত করেছিলাম। অনেকবার বালিয়াকান্দি নিবাচন অফিসে গিয়েও কোনো সুরাহা পাইনি। গত রবিবারও গিয়েছিলাম অফিসে, পুনরায় এসএসসি সনদপত্র নিয়ে যেতে বলেছেন। কাগজপত্র সংযুক্তসহ ফি দিয়ে অনলাইনে আবেদন করে যদি বারবার অফিসে ঘুরতে হয় তাহলে কষ্টের সীমা থাকে না।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি। এখনও কিছু বুঝে উঠতে পারিনি। আশা করি দ্রুত সেবাগ্রহীতারা তাদের প্রাপ্য সেবা পাবেন। 

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত