গাইবান্ধার সাঘাটায় ৮ পরিবারের ১৪টি ঘরের সম্পূর্ণ আসবাবপত্র আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়েছে। এ ঘটনায় গবাদিপশু ও নগদ টাকাসহ আসবাবপত্র পুড়ে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার হলদিয়া ইউননিয়নের একটি দুর্গম চরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
ওই গ্রামের জাকির হোসেন ও দুলাল মিয়ার ছেলে ও ভাতিজার ১৪ টি ঘর পুড়ে যায়। এ ঘটনায় ঘরের আসবাবপত্র, গরু-ছাগলসহ ৮ পরিবারের বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। সব মিলে তাদের প্রায় ২৫ লাখ টাকার অধিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন, হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, রান্না করার পর বাড়ির পাশের আগুনের ছাই রেখে দেয়। বাতাসে সেই ছাই থেকে আগুণের কুণ্ডলী বসতবাড়ির একটি ঘরে লাগে। বাতাসের বেগের কারণে আগুণ দ্রুতই চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। যা নিমিষেই ১৪টি ঘর পুড়ে যায়।
স্থানীয়রা জানায়, চরের প্রায় মানুষই বাড়ি থেকে দুর্গম চরের জমিতে কাজ করতে যায়। ফলে বসত বাড়িতে আগুন নেভাতে তেমন কোনো লোক ছিল না। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্তদের এক চালা টিনের ঘর দিয়ে পুনঃবাসনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান।
খবর পেয়ে সাঘাটা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি ইউনিট নৌকা যোগে রওনা হয়। প্রায় ১ ঘণ্টা যমুনা নদী পার হয়ে দুর্গম চরে এলাকায় পৌঁছায়। ততক্ষণে আগুনে ওই ৮ পরিবারের সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন গিয়ে ধ্বংসস্তূপের আগুন নিভে ফেলে।
স্থানীয়রা আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডে দুলাল মিয়া ও জাকির হোসেনের ঘর ও তাদের ছেলে ও ভাতিজার ১৪টি ঘরের সবটাই আগুনে পুড়ে ছাই হয়েছে। ঘর দেওয়া কংক্রিটের খুঁটি ও আগুনে পুড়ে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া চালের টিন ছাড়া কিছুই অবশিষ্ট নেই। অত্যন্ত দরিদ্র ও অসহায় ৮ট পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেল। পরিবার নিয়ে রাত কাটানোর কোনো উপায় নেই তাদের।
সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসাহাক আলী বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য কম্বল ও রাতের খাবার পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল আমি নিজে তাদের জন্য খাদ্য সহায়তাসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবো। এছাড়া পরিবারগুলোর পুর্ণঃবাসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।