সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণে কাঁপল হ্নীলা হোয়াইক্যাং

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২৪, ০৩:১৪ এএম

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্ত এলাকা থেকে মিয়ানমারে গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়নি পাঁচ দিন। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাত থেকে গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আবার প্রচ- বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে টেকনাফের হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকা।

হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত বিকট শব্দে প্রকম্পিত হয় এপারে কয়েকটি এলাকা। বিশেষ করে হোয়াইক্যং ও হ্নীলা ইউনিয়নের সীমান্তের কাছাকাছি এলাকা কেঁপে ওঠে। তবে সকাল ৮টা থেকে পরিস্থিতি ভালো রয়েছে।

টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র-২ মুজিবুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে রাখাইনের মংডু শহরের পাশের বলিবাজার, পেরাংপ্রুসহ কয়েকটি এলাকায় মিয়ানমারের জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। মর্টার শেলের বিকট শব্দে টেকনাফের মানুষ ঘুমাতে পারেনি। আতঙ্কে রাত কাটান অনেকে।

হোয়াইক্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী বলেন, ‘আমার এলাকার মানুষজনও রাতভর ওপারের গোলাগুলি ও মর্টার শেল বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছে। হোয়াইক্যং ইউনিয়নের বিপরীতে নাফ নদের তোতারদিয়া দুই সপ্তাহ আগে আরাকান আর্মি দখলে নেয়। এখন সেটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে মিয়ানমার ক্ষমতাসীন সামরিক বাহিনী।

সীমান্তের একাধিক সূত্র জানায়, রাখাইন রাজ্যের বলিবাজার, নাকপুরা ও কুমিরখালী, পেরাংপ্রুতে (টেকনাফের বিপরীতে) দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপির একাধিক সীমান্তচৌকি রয়েছে। মংডু শহরের আশপাশে রয়েছে কাওয়ারবিল বিজিপি হেডকোয়ার্টারের আওতাধীন ১ ও ৫ নম্বর সেক্টরের সদর দপ্তর। এক মাসের চলমান যুদ্ধে আরাকান আর্মি নাইক্ষ্যংছড়ির বিপরীতে রাখাইন রাজ্যে অবস্থিত তিনটি বিজিপি চৌকি দখলে নেয়। অন্যদিকে মংডুর দক্ষিণে রাচিডং ও বুচিডং এলাকার কয়েকটি চৌকি দখলের খবর রয়েছে।

বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সে দেশের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির দখলে থাকা সীমান্তচৌকিগুলো পুনরুদ্ধারের চেষ্টায় হামলা চালানো শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। জবাবে পাল্টা গুলি ছুড়ছে আরাকান আর্মির সদস্যরা।

টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন, বিজিবি ও স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, সীমান্ত থেকে অনেকটা দূরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সে দেশের সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। বেশ ভেতরে হওয়ায় গুলির আওয়াজ এপারে তেমন না এলে মর্টার শেল বিস্ফোরণে বাংলাদেশ সীমান্ত কেঁপে ওঠে।

টেকনাফের ২ বিজিবির (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি বিজিবি পর্যবেক্ষণ করছে। অনুপ্রবেশসহ সব ধরনের পাচার রোধে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আদনান চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, নতুন করে কিছু এলাকায় গোলাগুলির বিকট শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে খবর পাওয়া গেছে। সীমান্তের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও রাতের গোলাগুলি ও মর্টার শেল বিস্ফোরণে ঘটনায় আতঙ্কে আছে মানুষ। লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে মিয়ানমার থেকে আসা মর্টার শেলে বাংলাদেশে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের পাঁচটি স্কুল বন্ধ করে দিতে হয়। মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসে সে দেশের বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সদস্য, সরকারি কর্মকর্তাসহ তিন শতাধিক ব্যক্তি। পরে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত