বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিহতদের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি-এবি পার্টি। আজ শনিবার বিদ্যুৎসহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে দলটি এ আহ্বান জানায়।
এ সময় নেতারা বলেন, দুর্ঘটনাজনিত আগুন লাগলে সরকার আগুন নেভাতে পারে না, মানুষ বাঁচাতে পারে না। তারা সিন্ডিকেট বাণিজ্য করে জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে মানুষ মারতে পারে। দেশের জনগণের টাকায় যত ছোট উন্নয়নই হোক না কেন তার কৃতিত্ব নিতে প্রধানমন্ত্রী ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কৃতিত্ব যদি ওনার হয় এই সকল ব্যর্থতার দায়ও প্রধানমন্ত্রীর।
তারা বলেন, এতগুলো মানুষ মারা যাওয়ার পর রাজউকসহ অন্যান্য তদারকি সংস্থা সমুহ বিবৃতি দিচ্ছে, এটার অনুমোদন ছিল না ওটার অনুমোদন ছিল না। প্রশ্ন হলো অনুমোদন ছাড়া বেইলি রোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এতদিন ধরে ব্যবসা চলছে কিভাবে? তবে কি সব কমিশনখোরদের ওপর ভর করেই এই রাষ্ট্র চলছে?
এবি পার্টির নেতারা আরো বলেন, ক্যাপাসিটি চার্জের নামে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতেই একের পর এক বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে এই আওয়ামী বাকশালি সরকার। এই লুটপাটকে যেন কেউ চ্যালেঞ্জে করতে না পারে সেই জন্যই ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে।
তারা সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ইনডেমনিটি দিয়ে যেভাবে অতীতে অনেকেই রক্ষা পায়নি আপনারাও এই লুটেপাটের দায় থেকে রেহাই পাবেন না।
এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক বি এম নাজমুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু, যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, যুবপার্টির আহ্বায়ক এ বি এম খালিদ হাসানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল কাকরাইল, বিজয়নগর, পল্টনসহ রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, খোঁজ নিলে দেখা যাবে অবৈধ সরকারের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন বঙ্গভবন ও গণভবনেই অনিয়মের কোনো শেষ নেই। যখন সুযোগ সন্ধানীরা দেখে দেশে প্রধানমন্ত্রী হতেই কোনো নিয়ম মানতে হয় না, জনগণের ভোট লাগে না সেখানে বিল্ডিং বানাতে বা রেস্টুরেন্ট বানাতে আর কি আইন মানতে হবে। আমরা জনগণকে বলতে চাই, কেউ আসুক বা না আসুক, এবি পার্টি এই ফ্যাসিবাদি সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, স্বাধীনতার মাস শুরু হলো নাগরিকদের পরাধীনতার মধ্য দিয়ে। ভোট ও ভাতের অধিকার কেড়ে নিয়ে এই অনির্বাচিত সরকার প্রতিনিয়ত জনগণের সাথে তামাশা করে যাচ্ছে। গ্যাস-বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে, আগুনে পুড়িয়ে, বেশী দামে কম টাকার জিনিস কিনতে বাধ্য করিয়ে বিশ কোটি মানুষকে এক রকম জিম্মি করে রেখেছে দ্বিতীয় বাকশাল। অরক্ষিত সীমান্ত নিরাপদ রাখতে না পারলেও দেশপ্রেমিক বাহিনীগুলোকে দিয়ে বিরোধীদল নিধনযজ্ঞ চলমান রয়েছে অবিরত। হাজার হাজার বিরোধীদলীয় নেতা কর্মীকে জেলে পুরে, নির্যাতন করে স্বাধীনতা দিবস বা স্বাধীনতার মাস উদযাপন করাটা তামাশা ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না। তাই প্রতিবাদ আর লড়াই ছাড়া স্বাধীনতা ফিরে পাবার কোনো বিকল্প নেই আমাদের সামনে।
সভাপতির বক্তব্যে বি এম নাজমুল হক বলেন, আজকের এই বিক্ষোভ উপর্যুপরি বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে, নিত্য প্রয়োজনীয় সকল জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে, বেইলি রোডে নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিতে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রমজানের আগে যারা জিনিস পত্রের দাম বাড়াবে তাদের গণধোলাই দিতে, আমরা বলতে চাই যে সরকারের প্রধানমন্ত্রী দাম নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে জনগণকে আইন হাতে তুলে নিতে উসকানি দেন, তার ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই।
বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে আরো উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় সহকারী সদস্যসচিব শাহ আব্দুর রহমান, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, হাদিউজ্জামান খোকন, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী নাসির, যুগ্ম সদস্যসচিব সফিউল বাসার, কেফায়েত হোসেন তানভীর, মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সেলিম খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমেনা বেগম, রিপন মাহমুদ, মশিউর রহমান মিলু, শরন চৌধুরী, এনামুল হক, যুবপার্টি মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন রমিজ, উত্তরের সদস্যসচিব শাহীনুর আক্তার শীলা, এবি পার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, পল্টন থানা আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সি, ছাতপক্ষের সহকারী সদস্যসচিব হাসিবুর রহমান খান সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
স্বাস্থ্য পরীক্ষায় লন্ডন যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ পরিপালন সম্মেলন
নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ফুলেল শুভেচ্ছা