মাকে বাঁচাতে প্রতিমন্ত্রীর কাছে স্কুলছাত্রের খোলা চিঠি

আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৪, ০৪:২৮ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্র তার মায়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তা চেয়ে চিঠি লিখেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপিকা রুমানা আলী টুসির কাছে। তার লেখা চিঠিটি ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে। চিঠি সবার নজরে এলে অনেকেই এগিয়ে এসেছেন অসহায় শিশু ও তার মায়ের সাহায্যে। ওই চিঠি প্রতিমন্ত্রীর হাতে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেন জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা। প্রতিমন্ত্রীও এ চিঠি পেয়ে বেশ আবেগাপ্লুত হয়েছেন। দ্রুতই সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।

গতকাল রবিবার সকালে এ চিঠি ফেসবুকে ঘুরতে থাকে। এরই মধ্যে সে চিঠির ব্যাপারে অনেকে নানা মন্তব্য করছেন, সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসতে চাচ্ছেন। অসহায় এই শিশু স্কুলছাত্র ও তার মায়ের পাশে বিত্তবানদের দাঁড়ানোর আবেদন করছেন।

চিঠি লেখা সেই শিক্ষার্থীর নাম জাহিদুল ইসলাম জুবায়ের। সে ১ নম্বর সিঅ্যান্ডবি বাজার এলাকার আবদুল মালেক মাস্টার কিন্ডারগার্টেন অ্যান্ড হাইস্কুলের দশম শ্রেণিতে পড়ে। কিছুদিন আগে তার মায়ের একটি অপারেশন হওয়ার পর থেকেই খুব বেশি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থী জুবায়ের তার চিঠিতে প্রতিমন্ত্রীর উদ্দেশে লেখেনÑ ‘আশা করি আপনি আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন। একটি প্রয়োজনে আপনার কাছে এ ঠিঠি লিখছি। জানি না এ চিঠি আপনার কাছে পৌঁছাবে কি না।’

চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘কিছুদিন আগে আমার মায়ের একটি অপারেশন হয়েছে। আরও কিছুদিন পর জানা গেল সে অপারেশনটি ভুল হয়েছে। চিকিৎসক ভুল অপারেশন করেছে। এরপর আবারও আরও একটি অপারেশন করা হয়। তবে সে অপারেশনটিও সফল হয়নি। শিগগিরই আরও একটি অপারেশন করতে হবে। এখন আমার মা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। বেশ কয়েকবার অপারেশন আর হাসপাতালের টাকা পরিশোধে আমাদের অনেক টাকা খরচ হয়েছে। এখন টাকা নাই আমাদের। আমার আম্মা পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। এখন সে চাকরিও নাই। এখন আমাদের মা ছেলের নিয়মিত খাবার জোগাড় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আমার মায়ের অপারেশন খুবই জরুরি। না হলে আমার মাকে বাঁচানো যাবে না। আশা করি আমার মায়ের পাশে আপনি দাঁড়াবেন। এ পৃথিবীতে মা-ই আমার একমাত্র সম্বল।’

স্কুলছাত্র জাহিদুল ইসলাম জুবায়ের বলে, ‘তার মা এখন বিছানায় পড়ে আছে। আমাদের পরিবারে আমি আর আমার মা বসবাস করি। আমিই তার একমাত্র ভরসা। আমার কোনো ভাই-বোন নেই। বাবাও নেই। দ্রুত সময়ে তার মায়ের আরও একটি অপারেশন করা আবশ্যক। এতে অন্তত ৩ লাখ টাকা লাগবে।’

সে আরও বলে, ‘এর আগে অনেকের সাহায্য নিয়ে চিকিৎসা চলেছে। তার মায়ের অফিস থেকেও বেশ কিছু অর্থসহায়তা করা হয়েছিল। জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রবিনও বেশ কিছু টাকা দিয়ে সহায়তা করেছিলেন।’

আবদুল মালেক মাস্টার কিন্ডারগার্টেন ও হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘জুবায়ের বেশ শান্ত-স্বভাবের ছাত্র। তবে তার মায়ের এমন অসুস্থতায় সে বেশ হতাশায় ভোগে।’ তিনি বলেন, ‘তার অর্থকষ্ট দেখে স্কুলের পক্ষ থেকে সব খরচ অর্ধেক করা হয়েছে। খুব বেশি সমস্যা হলে সম্পূর্ণ ফ্রি করে দেওয়া হবে।’

গাজীপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল আলম রবিন বলেন, ওই স্কুলছাত্রের সাহায্যের আবেদনের আবেগঘন সেই চিঠিটা আমাদের প্রতিমন্ত্রীর কাছে পৌঁছানো হয়েছে। তিনি চিঠি পড়ে বেশ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন। তিনি দ্রুত ওই শিক্ষার্থী ও তার মায়ের সঙ্গে দেখা করবেন। তিনি তাদের সার্বিক সহযোগিতা করতে দায়িত্বশীলদের নির্দেশ দিয়েছেন।’

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শোভন রাংশা বলেন, ‘আজই প্রথম অফিস করছি এই স্টেশনে। তবে ওই অসহায় শিশু তার মায়ের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা হবে। যেকোনো দুস্থ-অসহায়দের পাশে সব সময় আছে সরকার।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত