হুট করেই জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশসেরা আরচার রোমান সানা। তার এমন সিদ্ধান্ত ক্রীড়াঙ্গনে হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এক পক্ষে অবসরের এই সিদ্ধান্ত ও পরবর্তীতে সংবাদ মাধ্যমে রোমানের দেওয়া বক্তব্যে হতাশ হয়েছেন। আরেক পক্ষ রোমানের এই সিদ্ধান্তের জন্য সামগ্রিক ক্রীড়াঙ্গনের ভঙ্গুর চিত্রকেই দায়ী করেছেন। রোমানের বিষয়টি অজানা থাকেনি সরকারের উপর মহলেও। ক্রীড়া মন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপনকে বুধবার অবসরের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া রোমানে চিঠি পড়ে শুনিয়েছেন আরচারি ফেডারেশনের সভাপতি মোহাম্মদ মইনুল ইসলাম। সব শুনে অবসের সিদ্ধান্তকে আবেগী সিদ্ধান্ত বলেছেন মন্ত্রী। আর সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল রোমানের এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত হয়েছেন। দেশের কাছ থেকে কিছু পাননি, রোমানের এই বক্তব্যও হতাশ হয়েছেন বর্তমান যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান।
ফেডারেশনের সভাপতি জানান, মন্ত্রীর সঙ্গে আরচারি ফেডারেশনের সভায় অনেক বিষয়ের মাঝে রোমানের বিষয়টাও আসে। তখনই সঙ্গে থাকা রোমানের দেওয়া চিঠি মন্ত্রীকে পড়ে শোনান তিনি, 'রোমানের চিঠিটি আমি সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলাম। মন্ত্রীকে চিঠি পড়ে শুনিয়েছি। চিঠির ভাষা ও সামগ্রীক বিষয় শোনার পর মন্ত্রী এটাকে আবেগী সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া শর্ত দিয়ে কোন সময় জাতীয় দলে খেলা যায় না বলে উল্লেখ করেন। এরকম খেলোয়াড়কে দলে সুযোগ দিতেও মন্ত্রী নিরুৎসাহিত করেছেন।'
অবসরের সিদ্ধান্ত জানানোর পর সংবাদ মাধ্যমে রোমান সানা বলেছেন, নানাভাবে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। দেশকে তিনি যা দিয়েছেন, তার প্রতিদান নাকী দেশ তাকে দেয়নি। এই বিষয়টি সাবেক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেলকে অবহিত করা হলে তিনি হতাশা ব্যক্ত করে দায় চাপিয়েছেন রোমানের ওপর। তার সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকা সত্যেও কখনই নাকী রোমান কোন কিছু চাননি। ২০১৯ সালে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জপদক জয়ের পর রোমান চেয়েছিলেন দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে মিষ্টি খেতে। রাসেলই তার চাওয়ার পূরণ করে দেন।
এছাড়া মায়ের চিঠিৎসার প্রয়োজনে রোমানকে সরকারের পক্ষ থেকে ৫ লাখ টাকাও দেওয়া হয়। একটি সংবাদমাধ্যমকে রাসেল বলেন, 'রোমানের বিষয়টি আমি মিডিয়ার মাধ্যমে জেনেছি। আমার কথা হলো যারা পুরস্কার পেয়েছে, তারা তো আগে আবেদন করে নিয়েছে। এছাড়া মৌখিকভাবে তাদের সমস্যার কথা জানিয়েছে। কিন্তু রোমান তো কখনও আমাদের কাছে চায়নি কিছু। চাইলে অবশ্যই ওর জন্য করা যেতো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবিক মানুষ। নিশ্চয় ওর জন্য কিছু করতেন। এখন না চাইলে কীভাবে বুঝবো কার কী প্রয়োজন।' এরপর তিনি যোগ করেন, '‘আমরা যখন শুনলাম ওর মা অসুস্থ। ডেকে ৫ লাখ টাকা দিয়েছি। এখন যদি বলে দেশ কিছু দেয়নি তা হবে দুঃখজনক। তারপরও বলবো রোমানের জন্য পথ খোলা। যে কোনও সময় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে।'
জাতীয় দল থেকে রোমানকে অব্যাহতি দেওয়ার অনুরোধ নিয়ে এখনও কোন সিদ্ধান্ত নেয়নি ফেডারেশন। অচিরেই সভা করে নিজেদের অবস্থান জানানোর কথা বলেছেন ফেডারেশন সভাপতি।
