রোমান সানার অবসর প্রসঙ্গ নিয়ে সরগরম দেশের ক্রীড়াঙ্গণ। এর মাঝে আরচারি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী রাজীব উদ্দীন চপল একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন আরচার রোমান সানার মানসিক সমস্যা রয়েছে।
তার আগে বাংলাদেশের হয়ে আর না খেলার জন্য ফেডারেশনের কাছে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছিলেন রোমান সানা। সেই আবেদনপত্রও শুক্রবার গ্রহণ করে আরচারি ফেডারেশন। ক্রীড়া সাংবাদিকদের প্রাচীন সংগঠন বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতির ইফতার অনুষ্ঠানে স্ত্রী আর্চার দিয়া সিদ্দিকীসহ উপস্থিত হয়েছিলেন রোমান সানা। সেখানে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন রোমান।
ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক বলেছেন আপনার মানসিক সমস্যা রয়েছে। এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
রোমান সানা: আমি জানি না কী বলবো আসলে। আপনারা তো দেখছেনই কী চলছে। স্যার অনেক সম্মানিত একজন ব্যক্তি। স্যারের কাছ থেকে এমন কথা আশা করা যায় না। কষ্ট লেগেছে। স্যারের কাছ থেকে এমন কথা শোনার পর থেকে নিজেরই খুব খারাপ লাগছে।
ফেডারেশনের সঙ্গে আপনার ইস্যুটা আসলে কোথায়?
রোমান: আমিতো সুযোগ সুবিধার কথা বলেছি। ক্রিকেট-ফুটবলের বাইরে আর যতগুলো খেলা আছে সেগুলোতে সুযোগ-সুবিধা নাই বললেই চলে। বেতন নাই, পকেটমানি নাই, স্থায়ী কিছুই নাই। দিনশেষে আমরা বছরব্যাপী খেলছি, পারফর্ম করছি, রেজাল্ট করছি। বছরশেষে আয় যে বাড়বে সেটাও নাই। আমি ১৪ বছর ধরে জাতীয় দলে খেলছি। ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে শুরু করে অলিম্পিক পর্যন্ত সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলেছি। আমি কিন্তু ফেডারেশনের বিরুদ্ধে যাইনি। আমি আমার জায়গা থেকে প্রতিবাদ করেছি। আমাদের ক্রীড়াবান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আছেন, ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আছে। সবাই মিলে ফেডারেশনগুলোসহ বসে যদি এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা যায় তাহলে কিছু একটা হতে পারে। কীভাবে সুযোগ-সুবিধাগুলো বৃদ্ধি করা যায়, কীভাবে অলিম্পিক মেডেল নিয়ে আসা যায় সেগুলো নিয়ে আলাপ হতে পারে।
দিনশেষে সর্বোপরী সকল খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে আমার প্রতিবাদের অংশ হিসেবে পদত্যাগ করা। ফেডারেশন যদি সুযোগ-সুবিধা বাড়ায় তাহলে আমি আবারও ফিরে আসবো।
ফেডারেশনের সঙ্গে পরবর্তীতে কথা বলেছেন কি?
রোমান: সেভাবে কথা হয়নি। তবে আগে-পরে তো হয়েছেই। ফেডারেশন আশ্বাস দিয়েছিল সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির তবে সেটা আলোর মুখ দেখে নাই। আমরা খেলোয়াড়রা আসলে খুব কষ্টে আছি। সারাবছর খেলে যে পরিমাণ অর্থ উপার্জন করি তা দিয়ে জীবন চালানো সম্ভব হয়ে ওঠে না।
সাধারণ সম্পাদক আপনাকে ফোন দিয়েছিলেন। কিন্তু আপনার পক্ষ থেকেই নাকি যোগাযোগ করা হয়নি। আপনি সরাসরি কেন যোগাযোগ করেননি। এ ব্যাপারে কী বলবেন?
রোমান: আমি প্রথম যখন ছাড়তে চেয়েছিলাম তখন ঢালী স্যার আমাকে বুঝিয়েছিলেন। আমিও সময় নিয়েছিলাম। মাসখানেক পেরিয়ে যাওয়ার পরও যখন কোনো অগ্রগতি হয়নি তখন আমি এ সিদ্ধান্ত নেই। আমার কাছে মনে হয়েছে ফেডারেশনের কথায় ও কাজে কোনো মিল নেই। ফেডারেশনের একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমি সব কথা চাইলেও বলতে পারি না। যখন ফেডারেশন থেকে বেরিয়ে গেলাম তখন আর কোনো দায়বদ্ধতা নেই। এখন আমি চাইলেই খেলোয়াড়দের অসুবিধা নিয়ে সব কথা বলতে পারবো। আর চপল স্যার আমাকে ফোন করেননি। আমার পুরো খেলোয়াড়ি জীবনে স্যার আমাকে ফোন করেছেন আর আমি যোগাযোগ করি নাই এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। আমি ব্যস্ত থাকলে মিসড কল দেখে পরে কলব্যাক করি নাই এমন কখনো হয় নাই।
দিনশেষে সর্বোপরী সকল খেলোয়াড়দের পক্ষ থেকে আমার প্রতিবাদের অংশ হিসেবে পদত্যাগ করা। ফেডারেশন যদি সুযোগ-সুবিধা বাড়ায় তাহলে আমি আবারও ফিরে আসবো।
ক্রীড়ামন্ত্রী পাপনের সঙ্গে আপনি দেখা করতে চেয়েছিলেন…
রোমান: আমি বরাবরই দেখে এসেছি উনি ব্যক্তিগতভাবেও অনেক ফেডারেশনের পক্ষে এগিয়ে এসেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভালো ভালো সব সংবাদ দেখেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই উনি যদি আমাকে সময় দেন তাহলে একান্তভাবে উনার কাছে আমি আমার মনের সব কথা খুলে বলতে চাই।
আপনার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছে ফেডারেশন, কী বলবেন?
রোমান: আমি সংবাদেই দেখেছি। এখনও কোনো চিঠি পাইনি। পেলে তারপর দেখবো কী করা যায়।
