ছাত্রকে গুলি করা সেই মেডিকেল শিক্ষক বরখাস্ত

আপডেট : ০৭ মার্চ ২০২৪, ০২:০৫ এএম

সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীকে গুলির ঘটনায় শিক্ষক রায়হান শরিফের অস্ত্রের উৎস ও অন্যান্য তথ্য জানতে আদালতে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছে ডিবি পুলিশ। গত মঙ্গলবার বিকেলে ওই শিক্ষককে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয় হয় বলে গতকাল বুধবার জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ জেলা ডিবির ওসি জুলহাজ উদ্দীন।

এদিকে গতকাল রাষ্ট্রপতির আদেশে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব দুর-রে শাহওয়াজ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে রায়হান শরিফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ আমিরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল রায়হান শরিফ যেন কলেজে থাকতে না পারেন। এরই মধ্যে তাকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি এসেছে। আশা করি, শিক্ষার্থীরা এখন শান্ত থাকবেন।

গত সোমবার বিকেলে মেডিকেল কলেজে মৌখিক পরীক্ষা চলাকালে প্রভাষক রায়হান শরিফের পিস্তলের গুলিতে আহত হন এমবিবিএস অষ্টম ব্যাচের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমাল। তার পায়ে গুলি লাগে। এরপরই শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ক্যাম্পাস। খবর পেয়ে পুলিশ শিক্ষক রায়হানকে হেফাজতে নেয়; তার পিস্তলটিও জব্দ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যমতে, তার একটি ব্যাগ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৮১টি গুলি, চারটি ম্যাগাজিন, দুটি বিদেশি কাতানা (ছোরা), ১০টি অত্যাধুনিক বার্মিজ চাকু ও দুটি ব্রাশ নাকেল উদ্ধার করা হয়।

কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক রায়হান শরিফ সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে; শহরের দত্তবাড়ি মহল্লায় তিনি থাকেন। আহত শিক্ষার্থী আরাফাত আমিন তমালের বাবা রায়হান শরিফের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। অবৈধ পিস্তল ব্যবহারের অভিযোগে ডিবির এসআই ওয়াদুদ আলী বাদী হয়ে রায়হান শরিফের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেছেন। দুটি মামলাই ডিবি তদন্ত করছে।

গতকাল ডিবির ওসি জুলহাজ উদ্দীন বলেন, দুটি মামলায় মঙ্গলবার বিকেলে রায়হান শরিফকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তিনি শিক্ষার্থীকে গুলি করার মামলায় আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য মামলায় তার রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। তিনি অস্ত্র কোথা থেকে কিনেছেন সেই স্বীকার করেছেন। তবে অস্ত্র মামলায় তার কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করা প্রয়োজন। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। ওসি জানান, আদালত এখনো রিমান্ড শুনানির দিন দেয়নি।

এদিকে গতকাল রাষ্ট্রপতির আদেশে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব দুর-রে শাহওয়াজ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এ বিষয়ে মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আমিরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক মো. রায়হান শরিফ ফৌজদারি অপরাধে গ্রেপ্তার হওয়ায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরাখাস্ত থাকাকালে তিনি বিধিমোতাবেক খোরপোশ ভাতাপ্রাপ্ত হবেন।

অধ্যক্ষ বলেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল রায়হান শরিফ যেন কলেজে থাকতে না পারেন। এরই মধ্যে তাকে সাময়িক বরখাস্তের চিঠি এসেছে। আশা করি, শিক্ষার্থীরা এখন শান্ত থাকবে।

ঘটনার তদন্তে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ওই কমিটির সদস্যরা মঙ্গলবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত