শুক্রবার ভোরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক শততম টেস্ট খেলতে নামবেন দুই কিউই তারকা কেন উইলিয়ামসন ও টিম সাউদি। তবে তাদের তাসমানিয়ান প্রতিবেশি অস্ট্রেলিয়া দুজনের উৎসব মাটি করার পরিকল্পনায় ব্যস্ত। হ্যাগলি ওভালে উইলিয়ামসন ও সাউদি জয় দিয়ে তাদের শততম ম্যাচ রাঙাতে চান। ২০১১ সালের পর থেকে টেস্টে কখনোই অস্ট্রেলিয়াকে হারাতে পারেনি নিউজিল্যান্ড।
ঘরের মাঠে সিরিজ, তাই প্রত্যাশার পারদও চূড়ায়। প্রথম টেস্টে ১৭২ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে এমনিতেই মানসিকভাবে পিছিয়ে কিউইরা। এর পরও দলের দুই খেলোয়াড়ের ঐতিহাসিক কীর্তির দিনে অতিরিক্ত চাঙ্গা থেকেই মাঠে নামবে সবাই। সেই উপলক্ষ্যই মাটি করার পরিকল্পনা করছে অজিরা।
প্রথম টেস্টের একাদশ নিয়েই হ্যাগলি ওভালে নামবে অস্ট্রেলিয়া। স্টার্ক-কামিন্স-হ্যাজেলউড পেসত্রয়ীর সঙ্গে স্পিনে বিষ ছড়াবেন নাথান লায়ন। চলতি গ্রীষ্মে খেলা সাত টেস্টে্ই খেলতে যাচ্ছেন এদের সবাই। অজি ক্যাপটেন কামিন্স বলেছেন, ‘একটি সময় ধরে গ্রীষ্মে খেলে আসলেও প্রত্যেকে সুস্থ ও সজীব আছেন।’ অবশ্য কিউইদের সঙ্গে এই টেস্টের পরেই সাদা পোষাকে লম্বা বিরতি রয়েছে অজিদের। কামিন্স জানান, ‘বিরতিতে যাওয়ার আগে আরেকবার চেষ্টা করতে চাই আমরা। কয়েকমাস আগের চাইতে দলগতবাবে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছি আমরা।’
টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান শিরোপাধারীরা এই চক্রে রয়েছে তিন নম্বরে। দুইয়ে থাকা কিউইদের সঙ্গে তাদের ব্যবধান খুবই সীমিত। এক-এ রয়েছে ভারত। শততম টেস্ট খেলার আগে কামিন্সের গলায় ঝড়েছে দুজনের পক্ষে স্তুতি। বলেন, ‘কেন ও সাউদি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের দুই বলিষ্ট নেতা।’
২০১০ সালে অভিষেকের পর টেস্টে ৮৬০০’র বেশি রান করেছেন কেন। ২০০৮ সালে অভিষেক হওয়া সাউদি ঝুলিতে আছে ৩৭৮ উইকেট। স্টিফেন ফ্লেমিং, ডেনিয়েল ভেটরি, ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও রস টেইলরের পর একই টেস্টে এ কীর্তি গড়বেন কেন ও সাউদি।
উইল ও’রওরকের ইনজুরিতে এ টেস্টে কিউই জার্সিতে অভিষেক হতে পারে পেসার বেন সিয়ার্সের। প্রথম টেস্টের একাদশে সুযোগ না পাওয়ার পর অবসরে যাওয়া নিল ওয়াগনারের প্রত্যাবর্তনের আলাপ উঠলেও কিউই কোচ গ্যারি স্টেড সে সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
এই টেস্ট দিয়েই অবসরে যাবেন বর্ষীয়ান আম্পায়ার মারাইস ইরাসমাস। ৮২ টেস্ট, ১২৪ ওয়ানডে, ৪৩ টি২০ ও ১৮ নারী টি২০ ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৬ সালে আম্পায়ার হিসেবে অভিষেকের পর ২০১৬, ২০১৭ ও ২০২১ সালে সেরা আম্পায়ার হিসেবে ‘ডেভিড শেফার্ড আইসিসি আম্পায়ার অফ দ্যা ইয়ার’ খেতাব জেতেন তিনি।
