সংবাদ সম্মেলনে আ.লীগের অভিযোগ

বিএনপি-জামায়াত নেতাদের কাজ দেন নির্বাহী প্রকৌশলী

আপডেট : ০৯ মার্চ ২০২৪, ০১:৫৮ এএম

অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে পায়রা বন্দরের উন্নয়নকাজ বিএনপি-জামায়াতের একটি সিন্ডিকেটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেছেন কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। তাদের ভাষ্য, কমিশন বাণিজ্য, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের মহোৎসব চালিয়ে প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন। সিন্ডিকেট তৈরি করে বন্দর লুটপাট করে যাচ্ছেন তিনি।

গতকাল সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব তালুকদার লিখিত বক্তব্যে বলেন, বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিনের আত্মীয়স্বজন ও আশীর্বাদপুষ্টরা এবং বিএনপি-জামায়াতের কিছু নেতাকর্মীদের নিয়ে একটা সিন্ডিকেট তৈরি করে পায়রা পোর্টের সব ঠিকাদারি কাজ নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করছেন। এতে মেগাপ্রকল্প নিয়ে দুর্নাম ছড়াচ্ছে, যার কারণে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। অসাধু এ কর্মকর্তার জন্য সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প বিতর্কিত হচ্ছে।

মোতালেব তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পায়রা বন্দরে কর্মরত থেকে বিএনপি-জামায়াত ঘরানা ও সরকারবিরোধী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্য তৈরি করে পায়রা বন্দরের ঠিকাদারি কাজ বাগিয়ে নিয়ে নিজেরা এবং তাদের স্থানীয় সহযোগীরা অবৈধ অর্থের পাহাড় গড়েছেন। নাসির উদ্দিনের আপন বড় ভাই হাসান মাহমুদ পরিচালিত ওয়াটার বার্ডস লিমিটেড এবং এ বি কোম্পানি নামে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়াও তাদের একান্ত সহযোগী স্থানীয় বিএনপি ও সাবেক ছাত্রদলের নেতা লিটন গাজীর মালিকানাধীন মেসার্স নুরজাহান এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে বন্দরের সব কাজ সাব কন্ট্রাট দেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, নাসির উদ্দিন তার অধীনে কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে অশ্লীল দুর্ব্যবহার করে বিতাড়িত করে দেন। তাদের দুর্ব্যবহার, মারমুখী আচরণকে ধামাচাপা দিয়ে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আমাদের দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নামে অসত্য চাঁদাবাজির তোকমা দিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা কোনো চাঁদা চায়নি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বা পায়রা পোর্টের কোনো কাজ বন্ধ হয়নি, বরং তারা নিজেরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাজ বন্ধ করে কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ওপর অসত্য দায় চাপিয়ে সরকার ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার অপচেষ্টা করছে। এ কারণেই স্থানীয় সাংবাকিদের কাছে কোনো সত্য তথ্য না থাকায় স্থানীয় সাংবাদিকরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্র্তৃক দেওয়া অসত্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এমন সংবাদ পরিবেশন করেননি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি বিপুল চন্দ্র হাওলাদার, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ সৈয়দ নাসির উদ্দিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক অধ্যক্ষ মঞ্জুরুল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান, ফিরোজ সিকদার, দপ্তর সম্পাদক অধ্যাপক ইউসুফ আলী, কলাপাড়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র মো. হুমায়ুন কবির, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী সালমা কবিরসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত