আইন অনুযায়ী, পুঁজিবাজারে লেনদেনের সময়সূচি নির্ধারণের এখতিয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) গত কয়েক বছর ধরে তাতে হস্তক্ষেপ করছে। সম্প্রতি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ রোজার মাসে বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে পুঁজিবাজারের লেনদেন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু এসইসির হস্তক্ষেপে লেনদেনে সময়সূচির এ সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার থেকে পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয় সকাল সাড়ে ৯টা থেকে, যা চলে বেলা দেড়টা পর্যন্ত। এরপর ১০ মিনিট অর্থাৎ দেড়টা থেকে ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত লেনদেন-পরবর্তী পোস্ট ক্লোজিং কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তবে রমজান মাসে ডিএসইর অফিস সময়সূচির বিষয়ে এসইসি কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি। ডিএসই অফিস সময়সূচি নির্ধারণ করেছিল সকাল ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত।
ডিএসই জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী, লেনদেনের সময়সূচি নির্ধারণের এখতিয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের। দীর্ঘদিন নিজস্ব আইন মেনেই সংস্থাটি লেনদেন সংক্রান্ত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছে। তারই অংশ হিসেবে এবারও রমজান মাসের লেনদেনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়। রোজায় বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং ডিএসইর পর্ষদ সভার অনুমোদনে এ সময়সূচি ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু ডিএসইর ওই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করে দেয় এসইসি। এর আগে করোনার সময়ও স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনের সময়সূচি নির্ধারণ করে দিয়েছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। ব্যাংকিং লেনদেনের সঙ্গে সমন্বয় করেই নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসইসি।
এ বিষয়ে এসইসির নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের রেগুলেশন কমিশনের অনুমোদন নিয়ে করা হয়েছে। আর কমিশন যদি মনে করে তাহলে সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে পারে। এই পরিবর্তন করা হয়েছে ব্যাংকের লেনদেনের সঙ্গে মিল রেখে। যেহেতু দুই স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আলাদা এবং তাদের লেনদেনের সময় যাতে অভিন্ন থাকে, সে জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা কয়েক বছর ধরে রমজানে লেনদেনের সময়সূচি নির্ধারণ করে আসছে। করোনার সময় এবং এর আগেও কমিশন থেকে পুঁজিবাজারের লেনদেনের সময় ঠিক করে দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে গতকালও পুঁজিবাজারে দরপতন হয়েছে। গতকাল ডিএসইতে বেশিরভাগ শেয়ারের দরপতনে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫১ পয়েন্ট হারিয়েছে। এ নিয়ে টানা চার কার্যদিবস ডিএসইর সূচক কমে প্রায় ৬ হাজার পয়েন্টে নেমে এসেছে। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত ২০ কার্যদিবসের মধ্যে ১৭ কার্যদিবসই ডিএসইতে দরপতন হয়েছে। লেনদেনের পরিমাণও ধারাবাহিকভাবে কমছে। এক মাসের ব্যবধানে দেড় হাজার কোটি টাকার লেনদেন নেমে এসেছে ৫০০ কোটির ঘরে।
গতকাল ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৯৪টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৪৫টির। বিপরীতে কমেছে ৩০৫টির, অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৪টির। গতকাল খাদ্য ও অনুষঙ্গ খাত ছাড়া সব খাতই বাজার মূলধন হারিয়েছে। প্রকৌশল, বীমা, ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, টেক্সটাইল, ব্যাংক ও ওষুধ খাতের শেয়ারের দরপতনে সূচকে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে। ডিএসইর প্রধান সূচকটি আগের দিনের চেয়ে ৫১ পয়েন্ট হারিয়ে নেমে এসেছে ৬০০৬ পয়েন্টে। একক কোম্পানিগুলোর মধ্যে সূচক কমাতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বীকন ফার্মা, বেক্সিমকো ফার্মা, রেনেটা, ফরচুন, আফতাব অটো, উত্তরা ব্যাংক, ফুওয়াং সিরামিক ও গ্রামীণফোন।
