উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন বগুড়ায় ফিলিং স্টেশনে

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২৪, ০২:২৮ এএম

রাজধানী ঢাকায় কাঁচাবাজার, বগুড়ায় একটি ফিলিং স্টেশন ও চট্টগ্রামের চন্দনাইশে আগুনে পুড়েছে গরুর খামার। গত সোমবার রাত ও গতকাল মঙ্গলবার এ তিনটি ঘটনা ঘটেছে।

রাজধানী উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে কাঁচাবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে অন্তত অর্ধশত ছোট-বড় দোকান পুড়ে গেছে। তা ছাড়া দুটি গরুর মৃত্যু হয়েছে।

বগুড়ার ধুনটের সোনাহাটা বাজার এলাকায় ফিলিং স্টেশনে আগুনের ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছে। চট্টগ্রামের চন্দনাইশে আগুনে পুড়ে মারা গেছে ১১টি গরু। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া ও চন্দনাইশ প্রতিনিধির পাঠানোর খবর :

উত্তরায় কাঁচাবাজারে আগুন : ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার রাকিব হাসান আগুন লাগার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর দমকলকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে চলে যান এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। সোমবার রাত ২টা ১০ মিনিট আগুন লাগে। এই কাঁচাবাজারটির ভেতর মুদিসহ অন্যান্য দোকান ছিল। এ ছাড়া সেখানে ফার্নিচারের কয়েকটি দোকান ছিল। যেগুলো সম্পূর্ণভাবে পুড়ে গেছে। এ ছাড়া লেপ-তোশক ও মেশিনারির দোকান ছিল।

আগুন লাগার খবরে সেখানে আসেন দোকানিরা। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মালপত্র বের করার চেষ্টা করেন। কিন্তু খুব বেশি কিছু বের করতে পারেননি।

এক দোকানি জানিয়েছেন, রাতে তিনি বাসায় ঘুমিয়ে ছিলেন। তখন একজন তাকে আগুনের খবর দেন। এরপর তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, প্রথমে তারা কাঁচাবাজারটিতে আগুন দেখতে পান। কিন্তু এটি ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে বড় আকার ধারণ করে।

বগুড়া ফিলিং স্টেশনে আগুন : গতকাল বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বগুড়ার ধুনটের সোনাহাটা বাজার এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে আগুন লাগে। এ ঘটনায় আহত তিনজন হলেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর এলাকার ছোট বায়রা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে তেলের পাম্পের মালিক মো. নীরব শেখ (৩৫) ও তার ভাই মো. সবুজ (২৫) এবং নীরবের স্ত্রী মিথিলা খাতুন (২৫)। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈকত হাসান।

তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট প্রায় ২ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। দুই-তিন বছর আগে পাম্পটি নির্মাণ করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে।

চন্দনাইশে খামারে আগুন : গতকাল বেলা ১১টার দিকে উপজেলার বৈলতলী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বুড়ির দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট কিংবা মশার কয়েল থেকে অগ্নিকা-ের সূত্রপাত বলে ধারণা করছেন স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধিরা।

ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আবদুল গফুর বলেন, ‘পূর্বশত্রুতার জেরে পার্শ্ববর্তীরা আগুন লাগিয়েছে বলে সন্দেহ হচ্ছে। ধারদেনা করে এসব গরু কিনেছিলাম। প্রায় ২০ লাখ টাকার ওপরে ক্ষতি হয়েছে আমার।’

থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান খামারি আবদুল গফুরের ছেলে ইমন।

বৈলতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম সায়েম বলেন, ‘অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আগুনে পুড়ে ১১টি গরু মারা গেছে।’

চন্দনাইশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ফায়ার ফাইটার মোশাররফ হোসেন জানান, খবর পেয়েই ফায়ার সার্ভিসের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেন। ততক্ষণে স্থানীয় জনগণ আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন। এতে ১১টি গরু পুড়ে মারা যায় বলে জানা যায় এবং ৪টি গরু জীবিত অবস্থায় জবাই করা হয়।

চন্দনাইশ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত। তবে অভিযোগ পেলে আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত