না ফেরার দেশে চলে গেলেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী, শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন রবিরাগের পরিচালক সাদি মহম্মদ। আজ বুধবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে তিনি ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে জানা গেছে।
সাদি মহম্মদের ছোট ভাই নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহাম্মদ। মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রহরে বাবাকে হারান সাদি। তার বাবার নাম শহীদ সলিমুল্লাহ। ১৯৭১ সালে মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের সি-১২/১০ বাড়িটি ছিল স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম সূতিকাগার।
ওই বছরের ২৩ মার্চ বাড়িতে সাদি মহম্মদের আঁকা বাংলাদেশের পতাকা ওড়ান সলিমউল্লাহ। পতাকাটি সেলাই করে দিয়েছিলেন সাদি-শিবলীর মা জেবুন্নেছা। সেই পতাকা ওড়ানোর সূত্র ধরে ২৬ মার্চ অবাঙালি বিহারি ও পাকিস্তানি সেনারা বাড়িটি পুড়িয়ে দেয়, গুলি করে মারা হয় সলিমউল্লাহকে। চোখের সামনেই বাবাকে হত্যা করতে দেখেন তিনি।
গত বছরের জুলাই মাসে সাদি মহম্মদের মা জেবুন্নেছা মারা যান। এরপর থেকেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন এই সংগীতশিল্পী।
সাদি মহম্মদ বিশ্বভারতী থেকে রবীন্দ্র সঙ্গীতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছেন। প্লেব্যাক করেছেন অসংখ্য সিনেমায় ও নাটকে। তিনি ২০১২ সালে চ্যানেল আইয়ের ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ এবং ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমির রবীন্দ্র পুরস্কারসহ অনেক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
তার মৃত্যুতে সংস্কৃতি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বুয়েট ছেড়ে কেন শান্তিনিকেতনে যান সাদি মহম্মদ?
গানের ঘরে সাদি মহম্মদের ঝুলন্ত লাশ, দরজা ভেঙে উদ্ধার