খেজুরের দাম এত বাড়ার কারণ কী?

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৪, ০৭:২৫ পিএম

রমজান মাস আসলেই চাহিদা বাড়ে খেজুরের। অন্যসব পণ্যের মতোই ইফতারের এই অনুষঙ্গের দাম বেঁড়ে যায় বহুগুণ। এবারও রোজা ঘিরে বেড়েছে খেজুরের দাম। শুল্ক কমানো এবং পরে দামও বেঁধে দেওয়ার পরও খেজুরের বাজারকে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না কর্তৃপক্ষ। ফলে সাধারণের মনে প্রশ্ন উঠেছে খেজুরের দাম এতো বেশি কেন? 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, খেজুরে আগে শুল্ক না থাকলেও ২০২২ সালে এসে আমদানি নিয়ন্ত্রণের জন্য শুল্ক আরোপ করে সরকার। এতে আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ, মূসক/ভ্যাট পনের শতাংশ, পাঁচ শতাংশ অগ্রিম আয়কর, পাঁচ শতাংশ অগ্রিম কর এবং তিন শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করে সরকার। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে খেজুরের দাম কম থাকলেও বাংলাদেশের বাজারে খেজুরের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। তাদের দাবি বাজারের সবচেয়ে কম দামি খেজুরেও প্রতি কেজিতে ৫২ টাকা কর নিচ্ছে সরকার, ফলে অন্য সব খরচ মিলিয়ে একশ টাকার খেজুর হয়ে যাচ্ছে আড়াইশ টাকা।

ভোক্তাদের অভিযোগ, উঠেছে অতি মাত্রায় শুল্কের পাশাপাশি রমজানে অতিরিক্ত চাহিদাকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীদের অতি লাভের প্রবণতার কারণেই এবার খেজুরের দাম হু হু করে বেড়েছে। এছাড়া আমদানিকারক খেজুর এনেও পর্যাপ্ত পরিমাণে বাজারে ছাড়ছেন না বলেও অভিযোগ তাদের। যদিও ব্যবসায়ীদের অবশ্য বলছেন অতি মাত্রায় শুল্ক নির্ধারণের কারণেই বাংলাদেশের বাজারে খেজুরের এত দাম।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুও জানান, আগে ট্যাক্স-ফ্রি থাকলেও এবার ডলার বাইরে চলে যাওয়াসহ নানা কারণে এনবিআর শুল্ক আরোপ করেছে। আমদানি মূল্য, ডলারের দাম এবং ট্যাক্স তিনটি মিলেই খেজুরের দাম এ অবস্থায় গেছে।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোটার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, তাদের এক হাজার ডলারের খেজুরের জন্য এখন চার হাজার ডলার ট্যারিফ ভ্যালু দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি বেড়েছে সংশ্লিষ্ট অন্য খরচগুলোও। ফলে একশ টাকা দামের খেজুর এমনি চারশো টাকা হয়ে যাচ্ছে। এর সাথে পরিবহন ও বিপণন খরচসহ অন্য খরচ আছে। ৯০ টাকার ডলার এখন ১২২ টাকা। এসবই দাম আকাশচুম্বী হওয়ার কারণ।

শুল্ক কমানোর পর গত ১০ই মার্চ পর্যন্ত এক মাসে দেশে খেজুর আমদানি হয়েছে ৩৮ হাজার টনের সামান্য বেশি। ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এর অর্ধেকই হলো বস্তায় করে আনা খেজুর। আর এর এক চতুর্থাংশ হলো জাইদি খেজুর।

চট্টগ্রামের খেজুর আমদানিকারক ফারুক ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্ণধার ফারুক আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কিন্তু দাম কম। বাংলাদেশে আসলেই অতি মাত্রায় শুল্ক দেওয়ার কারণে কয়েকগুণ দাম হয়ে যাচ্ছে। তার দাবি খেজুর আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পিপি ব্যাগ, ড্রাই কন্টেইনার, হিমায়িত কন্টেইনার সব কিছুতে শুল্ক ৩/৪ শ গুণ বাড়ানো হয়েছে। রিটেইল প্যাকেটজাত কার্টন ছিল ২২ টাকার সামান্য কম। সেটি এখন ১৮০ টাকা।

বাংলাদেশে খেজুর আসে মূলত ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তিউনিসিয়া ও আলজেরিয়া থেকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জাইদি খেজুর আমদানি করা হয় ইরাক থেকে। এছাড়া সৌদি আরব, মিশরসহ আরও কিছু দেশ থেকে অল্প পরিমাণে খেজুর আসে এদেশের বাজারে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত