পুঁজিবাজারে টানা দরপতন

আপডেট : ১৫ মার্চ ২০২৪, ০৩:০০ এএম

টানা ষষ্ঠ দিনে গতকাল বৃহস্পতিবারও বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর এবং সূচক কমেছে। যদিও পুঁজিবাজারের দরপতন ঠেকাতে অনেক চেষ্টা করা হয়, তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মাঝের তিন দিনের সামান্য বৃদ্ধি বাদ দিলে এই দরপতন চলছে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে। এই দরপতনের মধ্যেও পিপলস লিজিং, গোল্ডেন হারভেস্ট এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এবং গোল্ডেন সনের মতো গুটিকয় রুগ্ণ কোম্পানির শেয়ারদর বৃদ্ধির ধারা থেমে নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ অনুরোধে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে শেয়ার কিনে পতন ঠেকানোর চেষ্টা হয়। এতে টাকার অঙ্কে শেয়ার কেনাবেচার পরিমাণ বুধবারের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। ঢাকার পুঁজিবাজার ডিএসইতে কেনাবেচা হয়েছে ৫১৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার, যা আগের দিনের তুলনায় ৩১ কোটি টাকা বেশি।

লেনদেন কিছুটা বাড়লেও কেনাবেচা হওয়া ৩৯০ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৬২টির, কমেছে ১৭০টির এবং অপরিবর্তিত ৫৮টির দর। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এদিন বীমা, জ¦ালানি ও বিদ্যুৎ, প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি এবং টেলিযোগাযোগ খাতের বেশিরভাগ শেয়ারদর বেড়েছে। তবে বস্ত্র, সিমেন্ট, সিরামিক এবং কাগজ ও ছাপাখানা খাতের বেশিরভাগ শেয়ারদর হারিয়েছে। অন্যসব খাতে ছিল মিশ্রধারা।

বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজ কর্মকর্তারা জানান, পুঁজিবাজারের চলতি ধারায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম হতাশা কাজ করছে। প্রতিদিনই লোকসান বাড়ছে। ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের পর কয়েক সপ্তাহ বিনিয়োগকারীদের আনাগোনা বাড়লেও আগ্রহ হারিয়ে ফের বাজার ছাড়ছেন তারা। যাদের লোকসান বেশি, তারা শেয়ারের খোঁজখবর রাখাও ছেড়ে দিচ্ছেন।

তবে এর মধ্যেও কিছু জুয়াড়ি চক্র কয়েকটি শেয়ারের দর নিয়ে কারসাজি করছে। কৃত্রিম চাহিদা সৃষ্টি করে কয়েক দিন ধরে গোল্ডেন হারভেস্ট এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এবং গোল্ডেন সন কোম্পানির শেয়ারদর বাড়াচ্ছে। যেমন : গত ৪ মার্চ রুগ্ণ গোল্ডেন সন কোম্পানিটির শেয়ার ১৫ টাকা ৭০ পয়সায় কেনাবেচা হয়। মাত্র ৮ কার্যদিবসে শেয়ারটির দর ৫৮ শতাংশ বেড়ে গতকাল ২৪ টাকা ৭০ পয়সায় ওঠে। যদিও সর্বশেষ কেনাবেচা হয় ২৩ টাকা ২০ পয়সায়।

একইভাবে গোল্ডেন হারভেস্ট এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের দর মাত্র ৪ দিনে ২৪ শতাংশ বেড়ে ১৯ টাকা ছাড়িয়েছে। গত ১০ মার্চও এ শেয়ারটি সাড়ে ১৫ টাকায় কেনাবেচা হয়েছিল। একই অবস্থা দীর্ঘদিন লেনদেন স্থগিত রাখা পিপলস লিজিং কোম্পানির শেয়ারের। গত ১০ মার্চ থেকে লেনদেন শুরুর পর মাত্র ৫ কার্যদিবসে ৫৩ শতাংশ দর বেড়ে ৪ টাকা ৬০ পয়সায় উঠেছে। অব্যবস্থাপনায় ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের কোম্পানিটির ব্যবসা কার্যক্রম বন্ধ হলে ২০১৯ সালের ১১ জুলাইয়ের পর এর শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত