জুয়া ও মাদকসেবীদের দখলে হাটের ভবন, গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণ

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৪, ০৩:২৬ পিএম

প্রত্যন্ত গ্রামের ব্যবসায়ীদের কথা চিন্তা করে বগুড়ার আদমদীঘিতে দোতলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ১ বছরের বেশি সময় আগে। উপজেলার চাঁপাপুর ইউপির বিহিগ্রামে গ্রামীণ বাজারের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের এই নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে। তবে এখনও দোতলা ভবনের দোকান ঘরগুলো বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। আর এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে ভবনে ফাটল। অপরদিকে এক বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে থাকার কারণে এই বাজারটির ভবনগুলো এখন জুয়া ও মাদকসেবীদের দখলে। এছাড়া নিচতলায় গরু-ছাগলের অবাধ বিচরণ দেখে মনে হতে পারে এটা গরু-ছাগলের আবাসস্থল।

জানা যায়, ২০১৮ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর উপজেলার চাঁপাপুর ইউপির প্রত্যন্ত গ্রাম বিহিগ্রামে ২ কোটি ৬৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা ব্যয়ে আধুনিক মানের দোতলা গ্রামীণ বাজার ভবনের কাজ শুরু করে। ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয় গত ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসে। ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসের ১৬ তারিখে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে বিহিগ্রামের এই হাটের দোকান বরাদ্দের একটি বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। তবে এই বিজ্ঞপ্তির এক বছর পার হলেও দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়নি ব্যবসায়ীদের। এদিকে নির্মাণের দেড় বছরের মধ্যেই ভবনে দেখা দিয়েছে ফাটল। স্থানীয়রা বলছেন নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করার কারণে হাটের ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাজের মান নিয়ে।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, পরিতাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় ভবনের দেয়ালের রং উঠে গেছে, ফাটল ধরেছে বিভিন্ন জায়গায়। ভবনের নিচতলার এক পাশে বসে মাদক সেবন করে কয়েকজন, অন্যপাশে দেদারছে চলছে জুয়া। অন্যদিকে গরু-ছাগলের বিচরণ। ভবনের বিদুৎ সরবারহের জন্য সোলারের ব্যাটারিগুলো পরিতাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে।

আদমদীঘি উপজেলা প্রকৌশলী রিপন কুমার সাহা বলেন, দোকান ঘর বরাদ্দের জন্য ইউএনও মহোদয় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তালিকা পাঠিয়েছেন। আমরা যতদ্রুত সম্ভব হাটের দোকান বরাদ্দ দেওয়ার চেষ্টা করব। হাটের ভবনের ফাটলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি ফাটল ধরে বা রং উঠে যায়, তাহলে তা মেরামত করে দেওয়া হবে।

আদমদীঘি উপজেলা নিবার্হী অফিসার রোমানা আফরোজ বলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই হাটের দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে।

হাট ভবনে জুয়া ও মাদকসেবীদের বিষয়ে জানতে চাইলে আদমদীঘি থানার ওটি রাজেশ কুমার চক্রবর্তী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যহত। আমরা সম্প্রতি ওই এলাকা থেকে বেশ কয়েকজন মাদকসেবীকে আটক করেছি। হাট ভবনে কেউ জুয়া বা মাদক সেবন করতে পারবে না। আমারা এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত