ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের মধ্যেও ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনি ফুটবলাররা

আপডেট : ২১ মার্চ ২০২৪, ১০:১৬ পিএম

কাতারে আজ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। ফিলিস্তিনের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় হোম স্কোয়াড। দলটি আল ফিদাই বা "যোদ্ধারা" নামে পরিচিত। এটিই একমাত্র দল যার এখানকার অন্যান্য আরব ও মুসলিম জাতি সমর্থন করে। এই দলটির খেলোয়াড়দের মাঝে ফুটবল ও রাজনীতি মিশে একাকার হয়ে গেছে। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের মধ্যেই ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনি পুরুষ ফুটবল দলটি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে হামাসের বিমান হামলায় হানি আল-মাসদার নামে তাদের এক কোচের মৃত্যূ হয়। এই ফুটবলাররা জানেন, দেশটির স্বাধীনতার জন্য ফিলিস্তিনি মানুষের আশা ও আকাঙ্খার প্রতিনিধি তারা।

দোভাষীর মাধ্যমে জেরুজালেমে জন্মগ্রহণকারী ২৫ বছর বয়সী ডিফেন্ডার মুসা ফারাওয়ি বলেন, ‘আমরা কথা বলি আমরা কতটা আলাদা।প্রতিটি খেলোয়াড়ের প্রথম বাধ্যবাধকতা হল তিনি যে অঞ্চল থেকে এসেছেন তার প্রতিনিধিত্ব করা। আমরা প্রত্যেকেই কিছু না কিছু প্রতিনিধিত্ব করি। দায় আসছে আমাদের একটা বড় কষ্ট থেকে। মুহূর্তে আমরা নিজেদের জন্য খেলা বন্ধ করে দিই; আমরা মানুষের জন্য খেলছি।’

২০২৬ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ আয়োজনের বৈধ সুযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বিপক্ষে হোম অ্যান্ড হোম কোয়ালিফায়ারের প্রথমটি খেলবে দলটি। র‌্যাঙ্কিংয়ের ১৮৩তম স্থানে থাকা বাংলাদেশ দলের চেয়ে ফিলিস্তিনের জনপ্রিয়তা অনেক। ফিলিস্তিন জাতীয় দল একটি পরিবারের মতো। তবে অন্যান্য জাতীয় দলের মতো সুযোগ-সুবিধা নেই।

নিজেদের খেলা খেলতে হয় পরের মাঠে। এমনটি জানিয়েছেন ২৬ বছর বয়সী ইয়াসের হামেদ। ইংরেজিতে কথা বলা হামেদ স্পেনে বেড়ে ওঠেন, যেখানে তার ফিলিস্তিনি বাবা ডাক্তারি পড়ার সময় তার বাস্ক মায়ের সাথে দেখা করেছিলেন। দুজনেই চিকিৎসক।

তার বাবার পুরো পরিবার গাজায় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন আমরা স্টেডিয়ামে, বারান্দায়, রাস্তায় সর্বত্র ফিলিস্তিনি পতাকা দেখি, এর অর্থ কিছু হয়। এর অর্থ হলো, ফিলিস্তিন সেরাটা পাওয়ার যোগ্য; মুক্ত হওয়ার যোগ্য, নিরাপত্তার যোগ্য। এটা শুধু ফিলিস্তিনি জনগণের বিষয় নয়, এটা সব মানুষের ব্যাপার এবং সারা বিশ্বের। দলটি জানে যে তাদের সাফল্য এবং বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার সম্ভাবনা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে নতুন ওজন বহন করেছে। ফিলিস্তিনের স্পন্দিত চেতনা।'

তিনি বলেন, ‘রাজনীতি নিয়ে কথা বলতে চাই না। এটি এমন একটি বাক্য যা অন্য খেলোয়াড়রা পুনরাবৃত্তি করে। এর দ্বারা তারা সাধারণত যুদ্ধের সুনির্দিষ্ট বিষয়, ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলা যা এটিকে উস্কে দিয়েছে বা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এমন কিছু সম্পর্কে মন্তব্য করতে বোঝায়। কিন্তু রাজনীতি তো আপেক্ষিক। ফিলিস্তিনি হওয়ার বিষয়ে এমন কিছু বলতে পারে না যা কারও কাছে রাজনৈতিক নয়। এমনকি নিজের দেশকে ফিলিস্তিন বলেও অভিহিত করেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত