ব্রিটিশ শাসনামলে ঐতিহাসিক টংক আন্দোলন ও হাজং বিদ্রোহের নেত্রী কুমুদিনী হাজং আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ১০২ বছর।
আজ শনিবার দুপুরে নিজ বাড়ি নেত্রকোনার দুর্গাপুর সীমান্তে বহেরাতলীতে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। কুমুদিনীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্বজন বিরিশিরি ক্ষুদ্র নৃ–গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক গীতিকার সুজন হাজং।
সুজন হাজং জানান, বেলা ১টা ৪০ মিনিটে কুমুদিনী হাজং নিজ বাড়িতে মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ১০২ বছর। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। কুমুদিনী হাজং দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। নিজ বাড়িতে তিনি মেজ ছেলে অর্জুন হাজং ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। পরিবারের লোকজন ও আত্মীয়স্বজনেরা আসার পর রবিবার সকালে সোমেশ্বরী নদীর বিজয়পুর ঘাটে তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্নের কথা রয়েছে।
বৃহত্তর ময়মনসিংহের সুসং জমিদারি এলাকায় টংক প্রথার প্রচলন ছিল। ফসল হোক বা না হোক, নির্দিষ্ট পরিমাণ ধান খাজনা হিসেবে জমিদারকে দিতে হবে। ১৯৩৭ সালে শোষিত কৃষকেরা এ প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেন, যা টংক আন্দোলন নামে পরিচিত।
