সরকারিভাবে চলাচলের সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় নিজেরাই স্বেচ্ছাশ্রমে দীর্ঘ দেড় কিলোমিটার সড়ক বানাচ্ছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ^রী উপজেলার বল্লভেরখাষ ইউনিয়নের চর কৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দারা। বন্যা, নদীভাঙনসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করা এই চরবাসী সড়কের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। এমনকি তাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ সবকিছুই সারতে হচ্ছে পায়ে হাঁটা রাস্তার চড়াই-উতরাই পেরিয়ে। জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের দ্বারে দ্বারে গিয়েও একটি সড়ক পাননি বাসিন্দারা। তাই এবার নিজেদের দুঃখ ঘোচাতে নিজেরাই নেমে পড়েছেন সড়ক নির্মাণে।
চরবাসী জানান, অনেক বছর ধরে সড়ক নির্মাণের দাবি পূরণ না হওয়ায় এই উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। এত দীর্ঘ একটি রাস্তা তৈরি করতে অনেক টাকার প্রয়োজন। তারপরও তারা নেমে পড়েছেন নিজেদের যতটুকু সামর্থ্য আছে তা নিয়ে। তাদের গঠন করা সড়ক নির্মাণ কমিটি আস্থার সঙ্গে কাজ তত্ত্বাবধান করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মান্নান জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধ করে বেঁচে আছে। যাতায়াতে কোনো প্রকার রাস্তা নেই। বছরের বেশিরভাগ সময় আমাদের বন্যা আর বৃষ্টিতে কষ্ট করতে হয়। শুকনো মৌসুমেও ক্ষেতের আল দিয়ে কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়। হেঁটে পাড়ি দিতে হয় প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ। এই পথে চরবাসীর উৎপাদিত কৃষিপণ্য বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস আনা-নেওয়া বড়ই কষ্টের। চরের ছেলেমেয়েরা যোগাযোগের অভাবে লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ছে। বহু বছর ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেও একটি সড়ক নির্মাণের ব্যবস্থা হয়নি।
কমিটির কোষাধ্যক্ষ আব্দুল খালেক বলেন, ‘গ্রামের বাসিন্দারা সর্বনিম্ন দুই হাজার থেকে বিশ হাজার টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন। তবে এই টাকা খুবই নগণ্য। সড়কটি নির্মাণে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা খরচ হবে।’
বল্লভেরখাষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়াম্যান এসএম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি তৈরিতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষে বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব নয়। তাই চরের বাসিন্দাদের জোটবদ্ধ হয়ে কাজটি শুরু করার পরামর্শ দিয়েছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছি।’
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, ‘চর কৃষ্ণপুরবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে সড়ক নির্মাণের কাজটি অবশ্যই প্রশংসনীয়। আমরা তাদের কাজে সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। পরিদর্শন করে সেখানে সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’
