সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জিম্মি হওয়ার আগে সাহায্য চেয়েছিলেন ক্যাপ্টেন

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৪, ০২:৪৯ পিএম

গত ১২ মার্চ এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ ও ২৩ বাংলাদেশি নাবিককে জিম্মি করে সোমালিয়ার জলসদ্যুরা। সেদিন যেভাবে জাহাজটি জলদস্যুরা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল সে বার্তা পাঠিয়েছেন ওই জাহাজের ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবদুর রশিদ।

জাহাজের মালিক কেএসআরএমের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এস আর শিপিং এর প্রধান নির্বাহী মেহেরুল করিমের কাছে লিখিত বার্তা পাঠান ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আবদুর রশিদ।

জিম্মি হওয়ার দিনে (১২ মার্চ) দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ২২ দফা জাহাজের অবস্থার বর্ণনা পাঠান তিনি।

ওই বার্তায় বলা হয়, দস্যু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আগে সবার কাছে সাহায্যের মেসেজ দেওয়ার পরও কারো কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। একইসঙ্গে ওই সময় এমভি আবদুল্লাহর পাশে আরও আট থেকে নয়টি জাহাজ ছিল। দস্যুরা জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর বিকাল ৫টায় সোমালিয়া উপকূলের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে।

এ বিষয়ে নৌ বাণিজ্য অধিদপ্তরের প্রিন্সিপাল অফিসার ক্যাপ্টেন সাব্বির মাহমুদকে ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

উল্লেখ্য, সোমালিয় জলদস্যুরা গত ১২ মার্চ দুপুর দেড়টার দিকে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিসু থেকে প্রায় ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে ভারত মহাসাগর থেকে জিম্মি করে এমভি আবদুল্লাহকে। এ সময় জাহাজটিতে ২৩ জন নাবিক ছিল। জাহাজটি মোজাম্বিক থেকে ৫৫ হাজার টন কয়লা নিয়ে দুবাই যাচ্ছিল। জাহাজটি ছিনতাইয়ের পর সোমালিয়ার উত্তর—পূর্ব উপকূলের গ্যরাকাদে নোঙ্গর করে। জাহাজটি বর্তমানে উপকূলের প্রায় এক নটিক্যাল মাইলের মধ্যে নোঙ্গর করা রয়েছে। জিম্মিদের উদ্ধারের জন্য মালিকপক্ষের সাথে দস্যুদের একজন ইতিমধ্যে কথা বলেছে। কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। ইতোমধ্যে জাহাজের মালিক কেএসআরএম কর্তৃপক্ষ নাবিকদের স্বজনদের সাথে গত শুক্রবার ইফতার করে এবং তাদের সকলকে মানসিক সাপোর্ট দেয়। একই সময় নাবিকদের উদ্ধারের বিষয়ে তাদের আশ্বস্ত করে।

এর আগে একই মালিক গ্রুপের এমভি জাহান মনিকে ২০১০ সালে জিম্মি করেছিল একই গ্রুপের জলদস্যুরা। সেবারও মুক্তিপণ দিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। সোমালিয় জলদস্যুরা ২০১৬ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ৮টি জাহাজ জিম্মি করেছিল। এর আগে ২০০৯ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে জিম্মি করেছিল ৩৫৮টি জাহাজ।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত