উন্নত জীবনযাপনের উদ্দেশ্যে বিদেশে-বিশেষ করে ‘স্বপ্নের' ইউরোপে পাড়ি দেন সিলেটের অনেক মানুষ। তার ব্যতিক্রম নয় মৌলভীবাজারও। গত কয়েক বছর ধরে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়া এবং সহজ করায় দেশ ছাড়ার হিড়িক পড়েছে। সে সুযোগ হাতছাড়া করছেন না মৌলভীবাজারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও। এতে খানিকটা শিক্ষক সংকটে ঘাটতিতে পড়েছে মৌলভীবাজারের প্রাথমিক শিক্ষা।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত এক থেকে দেড় বছরে কানাডা ও ব্রিটেনসহ বিভিন্ন দেশে মৌলভীবাজারের প্রায় অর্ধশত প্রাথমিক শিক্ষক ‘ভুল তথ্য’ দিয়ে ছুটি নিয়ে স্থায়ী রসবাস শুরু করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ২৩টি বিভাগীয় মামলা করেছে। এ ছাড়া দীর্ঘদিন অনুপস্থিতির কারণে আরও ১১ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
শিক্ষা অফিস সূত্রে আরও জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলার ২৩ জন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষক 'মিথ্যা তথ্য' অর্থাৎ প্রবাসী স্বজন কিংবা মা-বাবার অসুস্থতার কথা বলে ছুটি নিয়ে দেশ ছেড়েছেন। তারা অনেকে অফিশিয়াল পাসপোর্টও গ্রহণ করেননি। নিজের পেশা গোপন করে পাসপোর্ট নিয়ে অননুমোদিতভাবে বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত রয়েছেন। এদের অধিকাংশই বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। তাদের দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারণে বিভাগীয় মামলা করা হয়।
এ দিকে বিভিন্ন দেশে যাওয়া শিক্ষকরা স্থায়ী হতে নতুন করে কৌশল নিচ্ছেন। তারা নিজেদের কর্মক্ষেত্রে অক্ষম দাবি করে চাকরি থেকে সরে যাওয়ার আবেদন করছেন। সঙ্গে ডাক্তারি সনদ সংযুক্ত করে দিচ্ছেন যাতে চাকরিবিহীনকালে সরকারি সুবিধা ভোগ করতে পারেন।
কয়েকজন অভিভাবক জানান, এভাবে শিক্ষকদের বাইরে যাওয়ার হিড়িক আগে কখনো দেখেননি তারা। এতে একদিকে যেমন শিক্ষক সংকট হচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে শিক্ষার্থীদেরও পড়তে হচ্ছে ভোগান্তিতে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত শিক্ষকদের বেশিরভাগই লন্ডন, আমেরিকা ও কানাডাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রয়েছেন। তাদের সবার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ১১ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ২৩টি বিভাগীয় মামলা চলমান।
‘এখন কোথায় থাকব, কি খাব, কিছুই ঘরে নাই’
একে-৪৭ অস্ত্রের কথা অস্বীকার করলেন মাংস ব্যবসায়ী খলিল
বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের চাপে অর্থনীতি
বিমানের টিকেটে অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ মন্ত্রীর 