ওসির কথায় মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক জেলে, অতঃপর ...

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৪, ১১:১২ পিএম

গরু চুরির অভিযোগে ১২ দিন কারাগার থেকে জামিনে এসে শিকলে বাঁধা পড়লেন কথিত চোর মঞ্জু মিয়া। তিনি উপজেলার ভাটি সাভার গ্রামের ফকর উদ্দিনের ছেলে ও মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক।

পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গত ৭ মার্চ রাতে প্রতিবেশী আবু বক্কর ছিদ্দিকের একটি বকনা গরু গোয়ালঘর থেকে নিয়ে অজানার উদ্দেশে রওনা দেয় মঞ্জু। রাত ২টার দিকে হেমগঞ্জ বাজারে পাহারাদারা তাকে আটক করে। এ সময় মঞ্জুর সন্দেহজনক আচরণ দেখে তারা গরুসহ নান্দাইল মডেল থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। 

পরদিন মঞ্জুর পরিবার ও গরুর মালিক থানায় গিয়ে এ বিষয়ে ওসি আ. মজিদের কাছে বিস্তারিত জানায়। মালিক পক্ষ প্রথমে কোনো অভিযোগ দিতে রাজি ছিল না। কিন্তু ওসি মঞ্জুর পরিবারকে বলেন, তাকে ছেড়ে দিলে অন্য বাড়িতে আবারও একই কাণ্ড ঘটাবে। তাই কোর্টে পাঠিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। যাতে সেখানে ব্যতিক্রম কিছু করলে পরিদর্শক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। 

অপরদিকে গরুর মালিককে ওসি বলেন, আপনারা যদি বাদী না হন থানা থেকে বাদী হবে। গরু কোর্টে পাঠিয়ে দিব। ওসির এমন বক্তব্য শুনে গরুর মালিক অভিযোগ দিতে রাজি হয়। অন্যদিকে চিকিৎসার আশ্বাস পেয়ে মঞ্জুর পরিবারও তাকে কোর্টে দিতে রাজি হয়। 

অবশেষে ওইদিনই মঞ্জুকে গরু চুরির অভিযোগে কোর্টের মাধ্যমে জেলে পাঠানো হয়। ১২ দিন হাজতবাসের পর ১৯ মার্চ মঞ্জুর অভিভাবক ও গরুর মালিক কোর্টে উপস্থিত হয়ে তার জামিন করায়। 

এ বিষয়ে মঞ্জুর চাচা শাহাবুদ্দিন জানান, ওসি আমাদের যা বলেছিল তার কিছুই আমরা পাইনি। বরং জেলে ছেলেটা মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার করায় মার খেয়েছে। আমরা তাকে চার দিন পূর্বে ময়মনসিংহে করানো চিকিৎসার কাগজপত্র দিয়েছিলাম তাও ঠিকমত দেখেনি। জেল থেকে আসার পর থেকে সে আরও বেশি ভারসাম্যহীন হয়ে গেছে। অপারগ হয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছি। ঢাকা মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসার বিষয়ে কথা চলছে।  

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গরুর মালিকের একজন স্বজন জানান, আমরা কখনোই তার বিরুদ্ধে মামলা দিতাম না, যদি গরু কোর্টে পাঠানোর ভয় না দেখাত। এদের বংশে কারো গরু চুরির রেকর্ড নাই। সবাই জেলে, মাছ ধরে বিক্রি করে খায়। এই ছেলেটাও মাছ ধরে। 

এ বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার ওসি আ. মজিদ বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর বেশি বলতে চাচ্ছি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত