নতুন কাঠামোতে বেতন-বোনাসের দাবি পোশাকশ্রমিকদের

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২৪, ১০:৩৯ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা ঈদ বোনাস ও সরকার নির্ধারিত বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এ সময় শিল্প পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ তাদের সঙ্গে কথা বললে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে তাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল ছোঁড়েন। পরে পুলিশ উত্তেজিত শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ করতে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এক সময় পুলিশ ও শ্রমিকদের মাঝে ধাওযা-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গাজীপুর ইউনিয়নের জৈনাবাজার এলাকার গুলশান স্পিনিং মিলের শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবি ও ঈদের পূর্ণবোনাসের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে এ মহাসড়কের দুপাশের লেনেই দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। শ্রমিকদের দাবি- পুলিশের লাঠিপেটায় বেশজন শ্রমিক আহত হয়েছেন। এক সময় পুলিশ মারমুখী হলে তারা মহাসড়ক ছেড়ে পালিয়ে অনত্র চলে যায়।

তবে এ ব্যাপারে কারখানা কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন। আর মালিক পক্ষ যে সিদ্ধান্ত দেবে তাও তাদের জানিয়ে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কারখানার মানবসম্পদ কর্মকর্তা শাহ মোহাম্মদ।

এদিকে একটি সূত্র বলছে, চলতি বছরে সরকার নির্ধারিত বেতন অবকাঠামো শুধু গামেন্টেসের (তৈরি পোশাক) জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। স্পিনিং মিলের জন্য সে বেতন কাঠামো বলবদ না। এতেই ক্ষুব্দ শ্রমিকরা আরও বেশি করে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।

আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, কারখানায় কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই আমাদের বেতন বাড়ানোর আশ্বাস দিয়ে আসছিল। বহুবার বলার পরও কর্তৃপক্ষ সরকার নির্ধারিত নতুন কাঠামোতে আমাদের বেতন দিচ্ছে না। এ ছাড়া সঠিক সময়ে আমাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয় না। তাদের অভিযোগ- বেতনের হিসাব অনুযায়ী নির্ধারিত ঈদ বোনাসের চাইতে কম টাকার বোনাস আমাদের দেওয়া হয়। এ নিয়ে আজও কথা বললে কারখানা কর্তৃপক্ষ ঝামেলা শুরু করে। এতে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়কে নেমে আন্দোলন শুরু করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর দুইটার দিকে গুলশান স্পিনিং মিলের অন্তত ৫ শতাধিক শ্রমিক মহাসড়কে আন্দোলন শুরু করেন।পরে পুলিশ এসে তাদের সাথে কথা বলেন। এক সময় তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হলে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে উত্তেজিত শ্রমিকদের সরিয়ে মহাসড়কে যান চলাচলে স্বাভাবিক করেন।

গুলশান স্পিনিং মিলের অ্যাডমিন অফিসার শাহ মোহাম্মদ জানান, মালিক পক্ষের সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের জানানো হলে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে মহাসড়ক নেমে পড়েন। আমরা চেষ্টা করছি তাদের মাথে কথা বলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে।

মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি শেখ মাহবুব মোর্শেদ জানান, খবর পেয়ে শিল্প পুলিশ ও মাওনা হাইওয়ে থানা পুলিশ শ্রমিকদের সাথে কথা বলে। এক সময় উত্তেজিত শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোঁড়ে মারে। এর পর পুলিশ অ্যাকশনে যায়। এখন মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

গাজীপুর শিল্প পুলিশের এসপি সারোয়ার আলম জানান, আন্দোলনরত উত্তেজিত শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রণ করতে ৩ রাউণ্ড কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়েছিল। ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা যানবাহন ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ অ্যাকশনে যায়। এখন আশপাশের পরিবেশ ভালো। কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ের করা আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত