বঙ্গবন্ধুর দেহরক্ষীর পরিবারের কাছে টাকা দাবি, ওসি-এএসআই প্রত্যাহার

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৪, ০৮:২১ পিএম

বঙ্গবন্ধুর গানম্যানের পরিবারের কাছে টাকা দাবি করায় গাজীপুর গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও এএসআইকে প্রতাহার করা হয়েছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এক আদেশে তাদেরকে গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

প্রত্যাহারকৃত দুইজন হলেন, গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আল আমিন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের এক উপ পুলিশ কমিশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেহরক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত মোহাম্মদ ইসলামের পরিবার গাজীপুরের গাছা থানার বাদশা মিয়া স্কুল রোড এলাকায় জমি কিনে বসবাস করে আসছেন। গত পাঁচ মাস আগে মহানগরীর মোগরখাল এলাকার আব্দুল মান্নানের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকায় ৮ শতাংশ জমি কিনেন বঙ্গবন্ধুর দেহরক্ষী মোহাম্মদ ইসলামের ছেলে মো. আ. জলিল। ২৫ লাখ টাকার মধ্যে ওই জমি নগদ সাড়ে ৯ লাখ টাকা পেয়ে বাকি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা বাকি রেখে জমির রেজিস্ট্রির কাজ সম্পন্ন করেন। কথা ছিল ২ থেকে ৩ মাস পর জমির বাকি ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করবেন। কিন্তু জলিল জমির বাকি  টাকা নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করতে পারেননি। পরে উকিল নোটিশ পাঠান জমি বিক্রেতা। চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে জমি বিক্রেতা আব্দুল মান্নান গাছা থানায় জলিলকে বাদী করে একটি অভিযোগ দেন।

জলিল জানান, অভিযোগটি তদন্ত করতে ১১মার্চ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদের বাড়িতে সাদা পোশাকে যান গাছা থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আল আমিন। জলিল বাথরুমে থাকায় তার ছেলে এগিয়ে গিয়ে পুলিশের সাথে কথা বলতে চাইলে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন আল আমিন। পরে জলিল বেরিয়ে আসলে তার সঙ্গেও বাজে আচরণ ও গালিগালাজ করেন পুলিশের ওই সদস্য। পরে তাদের মধ্যে আলাপ আলোচনার একপর্যায়ে এএসআই আল আমিন তার কাছে ২৫ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিলে তিনি জমি বিক্রেতার কাছ থেকে কয়েক মাসের সময় নিয়ে দিবেন বলে জানান। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকার করায় তার সঙ্গে আরও খারাপ ব্যাবহার করা হয়।

তিনি আরও জানান, তাকে গাছা থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। গাছা থানার নিচ তলায় নারী ও শিশু হেল্প ডেস্কে বসিয়ে রেখে তার সাথে বাজে ব্যবহার করা হয়। এক পর্যায়ে জলিলের গায়ে হাত তুলেন এএসআই আল আমিন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলমকে জানালে তিনি কোনো প্রতিকার না করে তাকে পাওনাদারের টাকা দ্রুত পরিশোধ করতে বলেন। পরদিন ১২ মার্চ জলিল বিষয়টি গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মাহাবুব আলমকে মৌখিকভাবে এবং পরে লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত