মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪, ৩ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

নোনা জমি এখন বহু ফসলি

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ১২:১৭ এএম

বরগুনা উপকূলের লোনা জমিতে কান্দি পদ্ধতিতে সবজি চাষ করছেন স্থানীয় কৃষকরা। গত দুই মৌসুমে একটি মাত্র গ্রাম থেকেই প্রায় ৯০ হাজার মণ সবজির উৎপাদনের পাশাপাশি বিক্রি হয়েছে কয়েক কোটি টাকায়। কৃষকদের এই চাষ পদ্ধতি ছড়িয়ে পড়েছে পাশের জেলাগুলোতে, স্থানীয়ভাবে এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘কান্দি’। কৃষিবিদরা বলছেন, এই চাষ পদ্ধতিকে বৈজ্ঞানিকভাবে রেইজড বেড (জমি উঁচু করার) পদ্ধতি বলা হয়।

তালতলী উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্যানুযায়ী, দুই দিকে নদী, এক দিকে সাগর ঘিরে থাকায় সওদাগরপাড়া গ্রামের খালে লবণাক্ত পানির প্রবাহ অনেক। যার ফলে মাটি লবণাক্ত হয়ে পড়ছে। আর এই লবণাক্ততার কারণে বছরের বেশির ভাগ সময় ৪ হাজার ৯৪০ একর জমিতে কোনো আবাদ করা যেত না। কৃষকদের ভরসা ছিল বছরে মাত্র এক বার আমন ধান। সওদাগরপাড়া আদর্শ কৃষি সমিতির তথ্যানুযায়ী, ‘কান্দি’ পদ্ধতিতে গত দুই মৌসুমে গ্রামের কৃষকরা প্রায় ৯০ হাজার মণ সবজির উৎপাদন করেছে।

গ্রামে  নতুন  এই ‘কান্দি’ পদ্ধতির সূচনা করেন কৃষক শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, পতিত লোনা জমিতে ফসল চাষের উপায় খুঁজতে থাকি। ২০১২ সালে নিচু জমির চারপাশের মাটি কেটে মাঝখানে উঁচু করে সবজির আবাদ করি। ক্ষেতের পাশের জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়ায় প্রায় ছয় ফুট গভীর গর্ত হয়। এতে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা যায়। এ পানি শুষ্ক মৌসুমে সেচ দিতে ব্যবহার করি। মাঘের শেষ সময়ে ক্ষেতের পাশের কুয়ায় জমিয়ে রাখা বৃষ্টির পানি দিয়ে বোরো আবাদও হচ্ছে। আগে গ্রামে বোরো আবাদ হতো না। সেচের জন্য মিঠাপানির অভাব পূরণ করলেন এভাবেই। শাহাদাত হোসেন জানান, সবজি চাষের জন্য জমি তৈরির সময় ওপরের অংশের মাটি নিচে এবং নিচের মাটি ওপরে চলে আসে। এতেই লবণাক্ততার প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব হয়। জমিতে যে বেড তৈরি করছেন, তা সমতল থেকে সাড়ে তিন ফুট উঁচু। ফলে লবণাক্ততা ছড়াতে পারে না।

কৃষক শাহাদাতের পদ্ধতি অনুসরণ করে সফলতা পেয়েছেন গ্রামের অন্য কৃষকরা। গ্রামের ২৪০ জন কৃষক এখন ৪৯৪ একর জমিতে সবজি আবাদ করছেন। সওদাগরপাড়া আদর্শ কৃষি সমিতি গড়ে তুলেছেন। মূলত শীত মৌসুমে শিম, মরিচ, বেগুন আর বর্ষা মৌসুমে মরিচ, শসা, মিষ্টিকুমড়া, তরমুজ চিচিঙ্গা, ঝিঙে, বরবটি ও লাউ বেশি আবাদ করেন। কৃষক শাহাদাত আরও জানান, শীতের শেষ দিকে বৃষ্টির জমানো পানি বোরো আবাদের জন্য সেচ দেওয়ার পর শেষ হয়। এরপর পায়রা নদীর শাখা তালতলী খাল থেকে পাইপের সাহায্যে পানি এনে সেচ দিতে হয়। এ জন্য বিএডিসি তাদের পাম্প মেশিন ও পাইপ দিয়েছেন।

তালতলী উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, বছরব্যাপী সবজির আবাদের সূত্র ধরেই গত দুই বছর গ্রামের ৪০০ হেক্টরে জমিতে বোরো আবাদও হচ্ছে। কৃষকের পাশাপাশি স্কুল কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও সবজির আবাদ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত