বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

আ.লীগের মতবিনিময়

চট্টগ্রামের নেতারাও উপজেলায় বিভেদের বিপদ দেখছেন

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৫০ এএম

রংপুর বিভাগ আওয়ামী লীগের পরে চট্টগ্রাম বিভাগের নেতারাও উপজেলা নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে সমর্থন জানানোর প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। তারা দাবি করেন, নির্বাচন উন্মুক্ত থাকার কারণে একাধিক প্রার্থী ভোটের মাঠে থাকবেন। তাতে কেউ কাউকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। তাতে বিভেদ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। এজন্য একজন প্রার্থীকে সমর্থনের প্রস্তাব করেছেন চট্টগ্রাম বিভাগের নেতারা।

গতকাল রবিবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের সব সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সংসদ সদস্যদের (এমপি) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ প্রস্তাব এসেছে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে বেলা ১১টার পর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়। চলে দুপুর প্রায় ২টা পর্যন্ত। শুরুতে সূচনা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। উপজেলা নির্বাচন, দলীয় কোন্দলসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। পরে নেতাদের কথা শোনেন।

আসন্ন উপজেলা নির্বাচন ঘিরে বিভাগীয় পর্যায়ে ধারাবাহিক মতবিনিময় করছে আওয়ামী লীগ। গত শনিবার রংপুর বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছে দলটি। সেখানে একক প্রার্থীকে সমর্থনের প্রস্তাব আসে। এবার স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দিচ্ছে না ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রতিযোগিতামূলক করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

বৈঠকে চট্টগ্রাম বিভাগের নেতারা দাবি করেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা উন্মুক্ত থাকার কারণে বিভিন্ন জায়গায় দলীয় প্রার্থী ও দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীর নেতাকর্মীদের বিরোধ তৈরি হয়েছে। এবার উপজেলায় একাধিক প্রার্থী থাকার কারণে সেই বিরোধ আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে।

তৃণমূল নেতারা নানা প্রস্তাব রাখলেও আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা দেশ রূপান্তরকে বলছেন, বিভিন্ন বিষয় আলোচনা করেই এবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থিতা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় একজন প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার প্রস্তাব করেন চট্টগ্রাম জেলা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুস সালাম, কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ অন্তত ছয় নেতা।

আবদুস সালাম বলেছেন, বলা হচ্ছে, এমপি-মন্ত্রী বা জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপজেলা নির্বাচনে মাথা ঘামাবেন না। মাথা ঘামানোটা দৃশ্যমান না, দেখা যায় না। সবাই মাথা ঘামাবেন। সেটা থাকুক। আগেও উপজেলা নির্বাচন হতো দলীয় প্রতীক ছাড়া। কিন্তু দল একজনকে সমর্থন করত। তাহলে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা থাকে। এখন যদি একটা উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে পাঁচ-সাতজন প্রার্থী ভোট করেন সেখানে এমপি একজনকে সমর্থন করবেন। জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা আলাদা আলাদাভাবে সমর্থন করবেন। এতে সংগঠন আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তিনি বলেছেন, প্রতীক ছাড়া নির্বাচনে কেন্দ্রের একটা সমর্থন বা গাইডলাইন থাকা প্রয়োজন। কারণ এক-একটা উপজেলায় একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী দেখা যাচ্ছে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী থাকার বিষয়টি তুলে ধরে সালাম বলেন, উপজেলা নির্বাচন নিয়ে নতুন করে বিরোধ তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন।

ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, দলের একাধিক নেতা নির্বাচন করলে নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ বেড়ে যাবে। নেতাদের মধ্যেও মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব সৃষ্টি হবে। কেন্দ্র থেকে একক প্রার্থী করা হলে বা একজনকে সমর্থন দেওয়া হলে সবাই তার পক্ষে কাজ করতে বাধ্য হবেন।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, উপজেলা নির্বাচনে জেলা ও উপজেলা থেকে একক প্রার্থী সমর্থনের প্রস্তাব এসেছে বৈঠকে। কিন্তু এ বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া আছে।

বৈঠকের শুরুতে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সামনে উপজেলা নির্বাচন। নেত্রীর নির্দেশনা জানেন। আপনাদের প্রস্তাব ছিল কোনো প্রার্থী না দেওয়ার। আপনাদের খুব দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। একেকজনের একেকরকম কথাবার্তা দলকে বিভ্রান্ত করে, যা খুশি বলে দেবেন? ফ্রি স্টাইলে কথা বললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মন্ত্রী-এমপিরা হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকলে নেত্রী যে উদ্দেশ্য এভাবে নির্বাচন করছেন, সেটা বাস্তবায়ন হবে।’

তিনি বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগের নেতারা চায়ের দোকানে বসে দলের বিরুদ্ধে কথা বলেন। এ ধরনের নেতাদের পরিহার করতে হবে। উপজেলা নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে, জনগণ যাকে ভোট দেওয়ার দেবে। এখানে আপনারা ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না।’

বৈঠকে এমপিদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতাদের দ্বন্দ্বের কথা তুলে ধরেন একাধিক নেতা। তাদের অভিযোগ ছিল, বিভিন্ন জায়গায় এমপিরা নিজস্ব বলয় তৈরির চেষ্টা করছেন। উপজেলা নির্বাচনেও তারা নিজের লোককে প্রার্থী করে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন।

এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, দলীয় মনোনয়নে যারা এমপি হয়েছেন তারা নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ত করে কাজ করবেন। আর যেসব স্বতন্ত্র এমপির দলীয় পদপদবি আছে তারা স্থানীয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবেন। কোথাও এমপিতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।

বৈঠকে চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্গত যেসব মহানগর, জেলা, উপজেলা, থানা ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেখানে সম্মেলন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাচন শেষে শুরু করে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ সব কমিটির সম্মেলন শেষ করার জন্যও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী বছর ৩১ মার্চের মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগে সব সাংগঠনিক শাখার পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত