মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ১০ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

২৫ দিন শেকলে বেঁধে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ!

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৩০ এএম

রাজধানীতে এক তরুণীকে ২৫ দিন একটি ফ্ল্যাটে বেঁধে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত শনিবার রাতে জরুরি সেবার ৯৯৯ নম্বরে এক ব্যক্তির ফোন পেয়ে মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিং এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

অভিযুক্ত চারজন হলেন তরুণীর কথিত প্রেমিক সান (২৬), তার সহযোগী হিমেল (২৭), রকি (২৯) ও সালমা ওরফে ঝুমুর।

২৩ বছরের ভুক্তভোগী ওই তরুণী গতকাল রবিবার করা মামলায় অভিযোগ করেছেন, প্রেমের ফাঁদে ফেলে সান তাকে ওই ফ্ল্যাটে নিয়ে গেছেন। এতে সহায়তা করেছেন সালমা।  

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আজিজুল হক বলেছেন, আজ সোমবার এ বিষয়ে তারা বিস্তারিত জানাতে পারবেন।

তরুণীর অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, নবীনগর হাউজিংয়ে সালমার চতুর্থ তলার ফ্ল্যাটে গত ৫ মার্চ থেকে তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। ওই তিন যুবকের ধর্ষণের ঘটনায় সহায়তা করেন সালমা।

বাবা-মায়ের মধ্যে বিচ্ছেদ এবং পরে তারা অন্যত্র বিয়ে করায় ওই তরুণী তার বড় বোনের বাসায় থাকছিলেন। সে সময় ভগ্নিপতির মাধ্যমে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়। পরে ওই যুবকের মাধ্যমে সালমা ওরফে ঝুমুরের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। সালমার স্বামী প্রবাসী। পরে বোনের বাসা ছেড়ে তার (সালমা) সঙ্গে নবীনগর হাউজিংয়ের ভাড়া ফ্ল্যাটে ওঠেন ওই তরুণী। ঝুমুরের মাধ্যমেই সানের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কও গড়ে ওঠে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সান ফেব্রুয়ারিতে তরুণীর ফ্ল্যাটেই তার সঙ্গে দুই দফা মিলিত হন। এরপর বিয়ের জন্য চাপ দিলে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন সান।

তরুণীর অভিযোগ, গত ৫ মার্চ দুপুরে দুই বন্ধু হিমেল ও রকিকে নিয়ে ওই বাসায় এসে সান তাকে সারপ্রাইজ দেবেন বলে চোখ বন্ধ করতে বলেন। সালমা এ সময় খাবার আনার কথা বলে কক্ষ থেকে বের হয়ে যান। সানের কথায় চোখ বন্ধ করলে তারা তিনজন মিলে তরুণীর হাত, পা ও চোখ বেঁধে ফেলে এবং মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে দেয়। অন্যরা শেকল আনতে বাইরে গেলে সালমার প্ররোচনায় পাহারায় থাকা হিমেল তাকে ধর্ষণ করেন। সেই দিন থেকে শেকল দিয়ে তার হাত ও পা বেঁধে রাখা হয় বলে ওই তরুণী অভিযোগ করেছেন।

তরুণীর অভিযোগ, ৭ মার্চ রকি বাসায় এসে তাকে ধর্ষণ করেন। খাবার এবং বাথরুমে যাওয়ার সময় বাসায় থাকা সালমা শুধু পায়ের শেকল খুলে দিতেন। পরদিন সানের ধর্ষণের ভিডিও চিত্র তার মোবাইল ফোনে ধারণ করেন সালমা। ২৮ মার্চ পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে ওই তিনজন তাকে ধর্ষণ করেন এবং একে অপরের ভিডিও করেন। সহায়তা করেন সালমা। গত ৩০ মার্চ রাতে বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে জানালা দিয়ে চিৎকার করে স্থানীয় এক ব্যক্তির দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন নির্যাতনের শিকার ওই তরুণী। ওই ব্যক্তি ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ আসে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত