শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ছুটির দিনে ভেঙে নিয়ে গেল স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভবন!

আপডেট : ০১ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:০৮ পিএম

ছুটির জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের একটি ভবন ভেঙে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান সোহেলের নির্দেশে তার সহযোগীরা ভবনটি ভেঙে নিয়েছে। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান।

জানা যায়, জামালপুরের কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের বিপরীত পাশে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। ওই কেন্দ্রের শতবর্ষী ২৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফুট প্রস্থের একটি ভবনের তিনটি কক্ষ দাতব্য চিকিৎসালয় হিসেবে ব্যবহৃত হতো। গত শুক্রবার ছুটির দিনে ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মাঠে এখনও ভবনের ভাঙা ভবনের অংশ বিশেষ ও পুরাতন ইট পড়ে আছে।

স্বাস্থ্য কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা. রিপন রায় বলেন, ‘আমরা বৃহস্পতিবার অফিস শেষে চলে যাই। পরে আবার শনিবার অফিসে এসে দেখি পরিত্যক্ত ভবনটি কে বা কারা ভেঙে নিয়ে গেছে। পরে আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই ও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করি।’

স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পাশে বসবাসকারী খালেদা বেগম বলেন, ‘আমরা হাসপাতালের পাশে থাকি। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খানের লোকজন ভবন ভাঙ্গা শুরু করে। রাত একটা পর্যন্ত ভবন ভাঙ্গার কাজ চলে। আমার ছেলে জিজ্ঞেস করতে গেলে, তাকে মারধর করতে আসে তারা।’

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খানের নির্দেশে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী সাজু বুলডুজার ও ভেকু দিয়ে ভবনটি ফেলেছে। এ সময় স্থানীয়রা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে চান। তবে এ সম্পর্কিত কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি তারা।

কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম খান সোহেলের সহযোগী সাজু এ ঘটনায় জড়িত না বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘শতবর্ষী ভবনটি অনেক আগেই পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এ ভবন ভাঙার একটি টেন্ডার হয়েছিল। সেই টেন্ডারের টাকা সরকারের কোষাগারে জমা হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৫০ শতাংশ জমির প্রায় বিশ শতাংশ দেখভাল হয়েছে। যারা ওই জমি বেদখল করেছেন তারাই ওই টেন্ডারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে ভবনটি ভাঙতে দেয়নি। আমি নিজের টাকা খরচ করে কেন ওই ভবনটি ভাঙতে যাব। ওখান থেকে আমি একটি ইটও সারাইনি।’


অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ  সাইফুল ইসলাম খান সোহেলও। তিনি বলেন, ‘দুই বছর আগে যারা টেন্ডারে ভবনটি পেয়েছেন তারাই মনে হয় ভবনটি ভেঙেছে। এখন আমি তাদের ভাঙা ভবনের জিনিষপত্র পাহাড়া দিচ্ছি। আমি এর চেয়ে বেশি কিছু জানি না।’

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উত্তম কুমার সরকার বলেন, ‘রবিবার দুপুরের দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’

থানায় সাধারণ ডায়েরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন ওসি মুহাম্মদ মহব্বত কবির। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত