পবিত্র ঈদুল ফিতরে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য পনেরো শ টাকায় বাসের অগ্রিম দুটি টিকিট কেটেছিলেন সাভারের জোরপুল এলাকায় তেলের লরি উল্টে আগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ইকবাল হোসেন। বাড়িতে থাকা দুই মেয়ের জন্য ঈদে নতুন জামা কেনা, বাবা-মায়ের জন্য ঈদ উপহার নেওয়া ও ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করতেন তিনি। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। তার প্রাণ গেল সড়কে।
আজ মঙ্গলবার ভোরে সিমেন্টবোঝাই গাড়ি থেকে সিমেন্ট নামানোর জন্য জোরপুল এলাকায় যান তিনি। এ সময় মহাসড়কে একটি তেল বোঝাই লরি উল্টে গিয়ে আগুন ধরে গেলে সেই আগুনে পুড়ে মারা যান ইকবাল হোসেন।
নিহত ইকবাল হোসেন যশোর জেলার চৌগাছা থানার বরনি গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে। তিনি তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারাকে নিয়ে সাভারের হেমায়েতপুর জয়নাবাড়ি এলাকার জিয়ারুল ইসলামের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ইকবাল ট্রাকের লেবার হিসেবে কাজ করতেন এবং তার স্ত্রী স্থানীয় চলন্তিকা হাউজিংয়ে অবস্থিত এনইসি গ্রার্মেন্টসে হেলাপারের কাজ করতেন।
মঞ্জুয়ারা বেগম জানান, মঙ্গলবার ভোররাতে আযানের আগেই ভাত খেয়ে তার কাছ থেকে ২০ টাকা নিয়ে কাজে বের হন ইকবাল। বলেছিলেন আজ তাড়াতাড়ি বাসায় চলে আসবেন। কিন্তু এভাবে আগুনে পুড়ে লাশ হয়ে ফিরবেন সেটা জানা ছিল না মঞ্জুয়ারারা।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মঞ্জুয়ারা আরও বলেন, আমাদের দুটি মেয়ে। সুমাইয়া (১৬) ও সাদিয়া (৮)। গ্রামের বাড়িতে কৃষি কাজ ও অটো চালিয়ে কোনোমতে তাদের সংসার চলছিল। কিছুদিন আগে বড় মেয়ে সুমাইয়ার বিয়ে দিয়েছেন। বিয়েতে বিভিন্ন এনজিও এবং সমিতি থেকে ঋণ নিয়েছিলেন ইকবালা। এ ছাড়া গ্রামের অনেকের কাছ থেকেও প্রায় ৩-৪ লাখ টাকা ধার নিয়ে মেয়ের বিয়ে দেন।
মঞ্জুয়ারা বলেন, এখন অন্য মেয়েকে কিভাবে মানুষ করব। তারও তো বিয়ে দিতে হবে। বাবা ছাড়া এতিম মেয়ের ভবিষ্যতে কি হবে। এখন আমি কি করব? কিভাবে চলব?
সাভার হাইওয়ে থানায় লাশ নিতে আসা বিল্টু রহমান বলেন, এখানে ওদের কেউ নাই। খবর পেয়ে আমরা দূর থেকে সাহায্য করার জন্য এসেছি। মেয়ের বিয়ের ঋণের টাকা পরিশোধের জন্য ঢাকায় এসে ছেলেটা অকালে পুড়ে মারা গেলে। আল্লাহ যেন তাকে মাফ করে দেয় এবং তার পরিবারকে ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করে দেয়।
নিপুণের দ্বারা নিষিদ্ধ পীরজাদা এখন নিপুণের প্যানেলে!
চট্টগ্রাম টেস্ট: ২৬৮/৭ নিয়ে পঞ্চম দিনে বাংলাদেশ