সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

সাজেকে পাহাড় না রিসোর্ট?

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০২ এএম

নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সাজেকের প্রাণ এর পাহাড়। কিন্তু নির্বিচারে চলছে সাজেকের পাহাড় কাটা। এর ফলে কেবল পরিবেশই নয়, এর অস্তিত্বই হুমকির মুখে। ব্যাপারটি উচ্চ আদালতের গোচরে আনা হলে হাইকোর্ট পাহাড় কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে। দেশ রূপান্তরে বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে পাহাড় কাটা বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত। এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২ এপ্রিল) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেয়।

রুলে সাজেকে পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, পাহাড় কাটা বন্ধে ব্যবস্থা নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত পাহাড় পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। ওদিকে, বুধবার সাজেকে পাহাড় কেটে সুইমিং পুল তৈরি করায় মেঘ পল্লী রিসোর্টকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছে বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসন। গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, জরিমানা করা ছাড়াও ভ্রাম্যমাণ আদালত অনির্দিষ্টকালের জন্য সুইমিং পুল বন্ধ ঘোষণা করে লাল পতাকা টানিয়ে দিয়েছে। প্রশাসনের বরাতে জানা যায়, পাহাড় কেটে সুইমিং পুল নির্মাণ বন্ধে উচ্চ আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর তারা এই অভিযান পরিচালনা করেন।

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে বেশ কিছু ছবিতে দেখা গেছে সাজেকে বসবাসরত স্থানীয়দের পানির তীব্র সংকট হলেও বিভিন্ন রিসোর্টে সুইমিং পুল তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে পানির সংকট আরও তীব্রতর হচ্ছে। সাজেকে নির্বিচারে পাহাড় কাটা, সে অঞ্চলের পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করছে। পানি ছাড়াও সেখানকার প্রাণপ্রকৃতি হুমকির মুখে আছে। শহুরে ও বিত্তশালীদের জন্য তৈরি হওয়া রিসোর্টগুলোতে নানা রকম বিলাসিতার জোগান দেওয়ার জন্য গোটা এলাকাই অস্তিত্বের সংকটে পড়ছে। সাজেক একটি বিশেষায়িত প্রাকৃতিক এলাকা। স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রাও এখানকার প্রকৃতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। পাহাড় কাটা বন্ধ না হলে পুরো এলাকাই বিপর্যয়ে পড়বে। পর্যটনের সঙ্গে জড়িত এবং পর্যটকদের এই ব্যাপারটা মাথায় রাখা জরুরি যে, এ রকম এলাকায় বিলাসের চিন্তা না করে, প্রকৃতির সঙ্গে সমন্বয় করে এর সৌন্দর্য উপভোগ করতে শেখা। বিশ্বের বিভিন্ন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পর্যটকদের সংখ্যা এবং স্থাপনা নির্মাণ সীমাবদ্ধ করার ব্যাপারে কঠোর নীতিমালা রয়েছে।

পাহাড় কাটা বিষয়ে হাইকোর্টের রায় সাজেকের অস্তিত্ব রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। পরের দিনই একটি রিসোর্টকে জরিমানা করার ঘটনা এ ব্যাপারে প্রশাসনের সদিচ্ছার প্রকাশ।

তবে, আমরা বেশিরভাগ সময়েই দেখি প্রভাবশালীদের চাপ ও হুমকিতে প্রশাসনের এই সদিচ্ছা এবং উদ্যোগ কমে আসে। বন কর্মকর্তাদের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে থাকে। রবিবার কক্সবাজারে রাতের আঁধারে পাহাড়ের মাটি কেটে পাচারে বাধা দেওয়ায় উখিয়ায় বন বিট কর্মকর্তাকে ডাম্প ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

উখিয়া বন রেঞ্জের এক কর্মকর্তা জানান, উখিয়ায় রাতের আঁধারে কোথাও না কোথাও অবৈধভাবে পাহাড় কাটা চলে। তাই রেঞ্জের সব বিট কর্মকর্তা রাতে নিয়মিত অভিযানে নামেন। প্রতিদিনের মতো রবিবার সাহরির সময় অভিযান টহলে যান উখিয়া রেঞ্জের দোছড়ি বিট কর্মকর্তা সাজ্জাদুজ্জামান। এ সময় খবর পান, এলাকার হরিণমারা লালুর বরোঘাটা এলাকা দিয়ে তুতুরবিল গ্রামের চিহ্নিত পাহাড়খেকো ছৈয়দ আলম ওরফে কানা ছৈয়দ পাহাড়ের মাটি ডাম্পট্রাকে পাচার করছে। মোটরসাইকেল চালিয়ে সাজ্জাদুজ্জামানরা সেখানে পৌঁছে ডাম্পারটি থামাতে সংকেত দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাটিভর্তি ডাম্পট্রাকটি দিয়ে চাপা দিয়ে চলে যায়। এই ঘটনা প্রমাণ করে, কেবলমাত্র হাইকোর্টের নির্দেশ নয়, বরং সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে আন্তরিক উদ্যোগ না নিলে সাজেকের অস্তিত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত