যশোরের মনিরামপুরে পরীক্ষা কক্ষে নকলের অভিযোগে চিঠি লিখে কলেজছাত্রীর আত্মহত্যার বিষয়ে তদন্তে যান জেলা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা। সে সময় তাদের সামনে কলেজের অধ্যক্ষকে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে।
আজ বুধবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গোপালপুর স্কুল এন্ড কলেজে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোপালপুর স্কুল এন্ড কলেজে গত ৩০ মার্চ দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষায় নকল ও খাতা কেড়ে নিয়ে হল থেকে বের করে দেওয়ায় সুইসাইড নোট লিখে সাবিনা নামের এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেন অভিভাবকসহ স্থানীয়রা। এ ঘটনার তদন্তে যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার মাহাফুজুল হোসেনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে দেওয়া হয় উপ পরিচালক খুলনাঞ্চল থেকে।
আজ বুধবার সকাল ১১টার দিকে জেলা শিক্ষা অফিসার মাহাফুজুল হোসেন ও উপজেলা শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার তদন্তে গোপাল স্কুল এন্ড কলেজে যান। তদন্তকারী দুই সদস্য কলেজের শিক্ষকদের সাথে কথা বলার এক পর্যায়ের দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কলেজ ছাত্রী সাবিনার স্বজনসহ এলাকার বিক্ষুদ্ধ জনতা কলেজে হামলা করে অধ্যক্ষ রেজাউল করিমকে জুতাপিটাসহ বেধড়ক মারপিট করে আহত করে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এক পর্যায়ে পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন জেলা শিক্ষা অফিসার মাহাফুজুল হোসেন ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সরকার।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বিকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ না করলে আরো খারাপ অবস্থা হতো। পুলিশের সহযোগিতা নিয়েই আমরা দুজন অফিসার ঘটনাস্থল ত্যাগ করি।
জেলা শিক্ষা অফিসার মাহাফুজুল হোসেন জানান, ওই ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। ঘটনা তদন্তে অন্য তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
গোপালপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ রেজাউল করিম বলেন, যা শুনেছেন সব সত্যি। আমি মানসিকভাবে অসুস্থ। কারও সঙ্গে কোনো কথা বলতে চাই না।
নেহালপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক আব্দুল হান্নান জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করেছি।
এ বিষয়ে হামলাকারী বা নিহত ছাত্রীর স্বজনদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
