টাকা দিলেই হোয়াটসঅ্যাপে টিকিট পাঠায় কালোবাজারিরা

আপডেট : ০৪ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৫৭ এএম

বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে ট্রেনের টিকিট এখন অনলাইন বা কাউন্টারে পাওয়া যায় না। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা দিলেই হোয়াটসঅ্যাপে টিকিট পাঠিয়ে দেয় কালোবাজারিরা। আবার তাদের কাছেই ট্রেনের অগ্রিম টিকিট অর্ডারও দেওয়া যায়।

ঈদে নিরাপদ ও আরামদায়ক বাহন হিসেবে বেশিরভাগ যাত্রী ট্রেন যাত্রাকে পছন্দ করেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ এইসব উৎসবে মেতে উঠে কালোবাজারিরা। ঈদযাত্রায় ট্রেনের বিভিন্ন রুটের টিকিট এবার অনলাইন বা কাউন্টারে পাওয়া না গেলেও সেইসব টিকিট পাওয়া যাচ্ছে কালোবাজারিদের কাছে। তবে সেক্ষেত্রে ৩৬০ টাকা মূল্যের একটি টিকিট পেতে গুনতে হয় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা।

নাইম ইসলাম নামের এক ব্যক্তি দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমার চাচাত ভাই ঢাকা থেকে সান্তাহারে আসবে এপ্রিলের ৮ তারিখে। সে কমলাপুর স্টেশনে গিয়ে ও অনলাইন থেকে কোনো টিকিট কাটতে পারে নাই। বিষয়টি আমাকে ফোনে জানালে আমি বাধ্য হয়ে কালোবাজারির কাছে থেকে টিকিট সংগ্রহ করি। সান্তাহারের সেই কালোবাজারি শোভন চেয়ারের একটি টিকিট আমার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠায়। টিকিটের গায়ে ৩৬০ টাকা মূল্য থাকলেও আমার কাছে থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১৩০০ টাকা নিয়েছে।

সান্তাহার রেলওয়ে টিকিট কাউন্টারের আশপাশের কম্পিউটারের দোকান থেকে পানের দোকান প্রায় সব দোকানেই কালোবাজারে বিক্রয় হয় ট্রেনের টিকিট।

গত ৩০ মার্চ রাতে সান্তাহার স্টেশনের রেলওয়ে কাউন্টারের বাইরে মাদুরে শুয়ে থাকা এক দিনমজুরের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি জানান, দুই-তিন দিন আগে একজন লোক তার কাছে এসেছিল। তার মোবাইল নম্বর ও এনআইডির ছবি উঠিয়ে নিয়ে তাকে ৫০ টাকা দিয়ে যায়। যাওয়ার আগে বলে যায় তার মোবাইল নম্বরটি আবার প্রয়োজন হবে। তখন আরও ৫০ টাকা দেওয়া হবে।

সেই দিন মজুরের মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে দেখা যায় গত ২৭ মার্চ রেলওয়ের টিকিট কাটার জন্য তার মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সান্তাহার নিরাপত্তা বাহিনীর পরিদর্শক নূর এ নবী বলেন, আমাদের গোয়েন্দারা মাঠে কাজ করছে। যেকোনো সময়ে আমরা কালোবাজারিদের গ্রেপ্তার করতে পারব বলে আশা করছি।

সান্তাহার রেলওয়ে থানার ওসি মোক্তার হোসেন বলেন, টিকিট কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত