অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় জামিন পেয়েছেন কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান ও তার স্ত্রী শাম্মী আরা পারভীন। বৃহস্পতিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সিনিয়র স্পেশাল দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে তাদের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন বিচারক রুহুল আমিন।
এ সময় বিবাদীর কৌঁসুলি শেখ মোহাম্মদ আবু তৈয়ব দাবি করেন, সমাজের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হেয় করতেই এই মামলা করা হয়েছে। আদালতে মামলার এজাহারে উল্লেখিত প্রত্যেকটি তথ্য চ্যালেঞ্জ করে সেগুলো ভিত্তিহীন বলে প্রমাণ করতে পেরেছি বলে আদালত জামিন মঞ্জুর করেছেন।
অপর কৌঁসুলি অ্যাড. হাসানুল আসকার হাসু বলেন, আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে দুদক যে বানোয়াট মামলাটি করেছেন সেটি আরও বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হয়ে করা উচিত ছিল।
তবে বিবাদী কৌঁসুলির বক্তব্যকে নাকচ করে দুদকের কৌঁসুলি অ্যাড আল মুজাহিদ মিঠু জানান, মামলাটি রুজু করার আগে দুদক কর্মকর্তারা দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত করেছেন। বিবাদীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যাদির মধ্যে ব্যাপক গরমিল এবং জ্ঞাতআয় বহির্ভূত সম্পদ আয়ের প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় দুদক এই মামলাটি করেছে।
দুদকের কৌঁসুলি আরও বলেন, জামিন অযোগ্য এই মামলায় সাধারণত উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বা এন্টিসিপেটরি বেল প্রাপ্ত হয়েই সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের পর জামিনাবেদন করা হয়। এ মামলার আসামিরা উচ্চ আদালতে না গিয়েই সরাসরি নিম্ন আদালত হতে জামিন পেলেন।
২০২২ সালে মার্চে কুষ্টিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শাম্মী আরা পারভিনের শত কোটি টাকার সম্পদের উৎসের সন্ধানে নামে দুদক। সেই সূত্র ধরে ওই শিক্ষিকার স্বামী কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতার আরও হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের সন্ধান পায় দুদক। অথচ তদন্ত শেষে মাত্র ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭৪ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ রাখার দায়ে মামলা করেছে দুদক।
দুদক শুরুতেই প্রভাবশালী এ আওয়ামী লীগ নেতার টেন্ডারবাজি, নিয়োগ বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির উৎস থেকে প্রায় হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে শুরু করে।
এর আগে ২০২৪ সালের ১১ মার্চ বিকেল ৪টায় দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয় কুষ্টিয়ার সহকারী পরিচালক, নীল কমল পাল বাদী হয়ে কুষ্টিয়া জেলা ও দায়রা জজ (বিশেষ আদালত) মো. আশরাফুল ইসলামের আদালতে মামলা করেন। মামলা নম্বর ০২ তাং ১১/০৩/২০২৪। এ মামলায় আসামি করা হয়েছে কুষ্টিয়া ০৪ নম্বর পৌর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শাম্মী আরা পারভিন ও তার স্বামী আতাউর রহমান আতাকে।
আতা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের সেকেন্ড ইন কমান্ড। তিনি ৭/৬১ মআ রহিম সড়কের বাসিন্দা।
সুইডেনে কোরআন পোড়ানো ব্যক্তি নরওয়েতে গ্রেপ্তার
অসহনীয় গরমে ঢাকার বাইরে বেড়েছে লোডশেডিং