প্রায় দুই দশকের অভিনয় ক্যারিয়ারে ক্রমান্বয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছেন ছোটপর্দার সুপারস্টার জিয়াউল ফারুক অপূর্ব। মডেলিং দিয়ে শুরুটা হলেও একটা সময় থিতু হন অভিনয়ে। নান্দনিকতায় ও চরিত্রের ভিন্নতায় হয়ে উঠেছেন দর্শকপ্রিয়। প্রথমদিকে নানামাত্রিক চরিত্রে হাজির হলেও কয়েক বছর ধরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন রোমান্টিক অভিনেতা হিসেবে। এখন রোমান্টিকতার পাশাপাশি বহুরূপী চরিত্রেও দেখা দিচ্ছেন তিনি। একটা সময় উৎসব মানেই অপূর্বর নাটক, কখনো কখনো সে সংখ্যা ছাড়িয়ে যেত চল্লিশেরও বেশি। তবে মানের দিকে গুরুত্ব দিয়ে এখন নাটকের সংখ্যা কমিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে ব্যস্ততা বাড়িয়েছেন ওটিটিতে।
এবার ঈদে হাতেগোনা কয়েকটি নাটকে দেখা যাবে তাকে। এবার ঈদের জন্য একটি নাটকের শুটিং করলেও বাকিগুলো আগের করা কাজ। ঈদের আগ মুহূর্তে মাস জুড়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন ওয়েব সিরিজের শুটিং নিয়ে। মূলত সে কারণেই এবার ঈদের জন্য নাটকে সময় দিতে পারেননি এ অভিনেতা।
জিয়াউল ফারুক অপূর্ব বলেন, ‘এবার ঈদের জন্য কোনো নাটক সেভাবে করতে পারিনি। ওটিটির কাজের জন্য অনেক দিন ধরে সময় দিতে হচ্ছে। তবে এরই মধ্যে সবাই জানেন সেটি। তবে এই কাজটি নিয়ে বিস্তারিত এখনই কিছু বলা বারণ। আমি জানি, ‘আমার ভক্ত-দর্শকরা আমার কাজের অপেক্ষা করেন। তবে যখন একটু বেশি সময় নিয়ে একটা ভালো কাজ দিয়ে সামনে আসব, তখন তারা অবশ্যই খুশি হবেন।’
অভিনেতার ভাষ্যে, ‘কতগুলো কাজ আসবে কি না আসবে সেসব নিয়ে আমি খুব একটা ভাবি না। নিজের কাজগুলো নিয়ে ওভাবে আলাদা করে বলা উচিত না। আমি শুধু কাজটাতে ফোকাস করি। আমার কাজ শুধু অভিনয় করা, ভালো-মন্দ বিচার করবেন দর্শকরা। যারা আমাকে পছন্দ করেন, ভালোবাসেন এবং কাজ দেখেন তাদের জন্যই কিন্তু অভিনয় করি। এখানে আসলে আমার পছন্দ ম্যাটার করে না, দর্শক পছন্দটাই আসল।’
যেহেতু উৎসব ঘিরে অনেক কাজ করতে হয় ঈদের আগ মুহূর্তে ঠিক কতটা চাপ অনুভব করেন, এমন প্রশ্নে ‘বড় ছেলে’খ্যাত এ তারকার উত্তর, ‘অন্যান্য সময় একটু ফ্লেক্সিবিলিটি থাকে, একটা কাজ বা কোনো দৃশ্য আটকে গেলে সেটা পরে করলেও হয় কিন্তু ঈদের কাজগুলোর ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হয় না। অনেক রাত করে হলেও চাপ নিয়ে কাজটা শেষ করতে হয়। এদিক থেকে একটু বেশি মনে হয়।’
ওটিটি এবং সিনেমার কাজ নিয়ে তিনি বলেন, অনেকগুলো কাজ নিয়েই কথা হয়েছে, চূড়ান্ত হয়ে আছে। নাটক, ওয়েব এবং সিনেমাও। ঈদের পর কিছু নাটক করা হবে, পাশাপাশি ওটিটিরও। আর ঢাকা এবং কলকাতা দুই জায়গাতেই সিনেমা নিয়ে কথাবার্তা চলছে। শিগগিরই সুখবর জানাতে পারব আশা করছি।
ঈদের সময় কীভাবে কাটাবেন, এমন প্রশ্নে অপূর্ব বলেন, ‘ঈদ মানেই তো আনন্দটা সবার মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া। পরিবারের সঙ্গে কাটাব। বাবাকে খুব মিস করব। আয়াশের সঙ্গে সময় কাটাব। আমার বোন-ভাইয়েরাসহ বন্ধু-আত্মীয়রা বাসায় আসে তাদের সঙ্গে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া করব, আড্ডা দেব।’
ছোটবেলার ঈদ এবং এখনকার ঈদের মধ্যে কীরকম পার্থক্য খুঁজে পান, এ রকম প্রশ্নে অপূর্ব বলেন, ‘ছোটবেলার ঈদের আনন্দগুলো ছিল অন্যরকম। তখন একদম টেনশন ফ্রি ছিলাম। তখন ছোট্ট অপূর্বর কাছে সবকিছুই রঙিন মনে হতো। হাসতাম, ঘুরতাম, আড্ডা দিতাম। ওইসময়ের প্রত্যেকটা দিনই ছিল বেশ আনন্দের। তখনকার সময়ে শুক্রবার কিংবা স্কুল ছুটির দিনই যেন আমার কাছে ঈদ মনে হতো। সে সময়ের আনন্দটা এখনকার সময়ের কাছে কিছুই না। সে সময়ের সঙ্গে এখনকার তুলনা করা চলে না আসলে। এটা যে শুধু আমার ক্ষেত্রে তা নয়, এটা সব বড়দের ক্ষেত্রেই। বড়রা আসলেই দুর্ভাগা, সেদিক থেকে ছোটরা অনেক সৌভাগ্যবান। ছোটবেলা মনে হতো কবে যে বড় হব, আর বড় হয়ে এখন মনে হয়, কেন যে বড় হলাম!’
ঈদে সালামি পাওয়া ও দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখানেও কিন্তু ছোটবেলাটাই মজার। তখন সবার কাছ থেকে অনেক অনেক সালামি নিতাম। এখন সালামি পাওয়ার চেয়ে দিতে হয় বেশি।’
