সোনাগাজীতে এখন বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মধ্যে আসে

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৫২ পিএম

ফেনীর সোনাগাজীতে বিদ্যুৎ কখন যাবে সেই দুশ্চিন্তা নেই কারো মাঝে। সবাই এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকে কখন বিদ্যুৎ আসবে। বিদ্যুতের এমন নজিরবিহীন লোডশেডিংয়ে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। গত এক সপ্তাহ সোনাগাজীর অধিকাংশ এলাকায় দৈনিক ৪ ঘণ্টাও ঠিকমত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়নি। তীব্র গরমে সর্বত্র যখন মানুষ হাঁপিয়ে উঠছে ঠিক তখনই এই লোডশেডিং।

সকাল, দুপুর কিংবা রাতে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি পেশার মানুষ। অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে অনেকে বিরক্তি প্রকাশ ফেসবুকে বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছেন। বিদ্যুৎ সেবা প্রদানের জন্য অভিযোগ নম্বরে ফোন করা হলেও কোনো সাড়া মিলছে না বিদ্যুৎ অফিস কর্তৃপক্ষের। এক সময় শুধু সন্ধ্যার সময় লোডশেডিং হলেও সম্প্রতি দিনে ও রাতে সমান তালে চলছে লোডশেডিং। তা ছাড়া বিদ্যুৎ ব্যবহার না করেও মিনিমাম চার্জ দিতে হচ্ছে গ্রাহকদের। লম্বা সময় লোডশেডিং থাকায় ফ্রিজে থাকা দ্রব্যসামগ্রী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসায় স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিদ্যুতের এমন সংকটেও  গ্রাহকদের আশ্বস্ত করতে পাশে পাওয়া যাচ্ছে না ক্ষমতাশীন দলের নেতৃবৃন্দকে। ফলে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে সর্বত্র।

উপজেলার আমিরাবাদ ইউনয়নের সাহেবের হাটস্থ ড্রীম এগ্রো ফিডস—এর চেয়ারম্যান মহি উদ্দিন আহমেদ জানান, সকাল, দুপুর কিংবা রাতে দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিংয়ে উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বাজারে চাহিদার তুলনায় ডিম ও মোরগের সরবরাহ কম থাকায় ভোক্তাদের অস্থিরতার পাশাপাশি দামও বেড়েছে।

চরছান্দিয়া ইউনিয়নের ওলামাবাজার এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন জানান, গত শুক্রবার ভোর থেকে শনিবার ভোর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১৯ ঘণ্টা লোডশেডিং ছিল আমাদের এলাকায়। আগে মানুষ বিদ্যুৎ কখন চলে যাবে সেই দুশ্চিন্তায় থাকলেও এখন বিদ্যুৎ কখন আসবে অধীর অপেক্ষায় থাকে এলাকাবাসী। এখন আগের মতো বিদ্যুৎ যায় না, শুধু মাঝে মাঝে আসে।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সোনাগাজী জোনাল অফিসের ডিজিএম বলায় মিত্র বলেন, গরম বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব আমাদের, কিন্তু আমরা চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পেলে গ্রাহকদের সরবরাহ করব কিভাবে। আমাদের চাহিদা বেশি কিন্তু বরাদ্দ কম। বর্তমানে প্রতিদিন সোনাগাজী উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা পিক আওয়ারে ১৬-১৭ মেগাওয়াট, অফ-পিক আওয়ারে ১১-১২ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে আমরা পাচ্ছি ৩-৫ মেগাওয়াট। তাই বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে লোডশেডিং নিয়ে কথা বলেছি। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় লোডশেডিং হচ্ছে। আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে দ্রুত সমস্যা সমাধানে উদ্যেগ নেয়া হবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিং নিয়ে আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। এটা শুধু সোনাগাজী না সারা দেশেই এ রকম হচ্ছে। এ সমস্যা বেশি দিন থাকবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত