পূর্ববিরোধের জেরে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়িতে পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আওয়ামী লীগ সদস্য মো. সোহরাব খান (৫৫) খুন হয়েছেন। এ সময় তার ছেলে জনি খানও (৩০) জখম হন। গতকাল সোমবার দুপুর ১২টার দিকে জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার দীঘিরপাড় বাজারে দীঘিরপাড় পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা এ খুনের সঙ্গে ওই পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ শাহআলমের সম্পৃক্ত থাকার কথা দাবি করেছে। নিহত সোহরাব খান উপজেলার মূলচর গ্রামের প্রয়াত নুরু খানের ছেলে।
এদিকে ঘটনার পর দীঘিরপাড় বাজার ও আশপাশ এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তদন্তকেন্দ্রের সামনে শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্তকেন্দ্রের মাঠে উত্তেজিত জনতা অবস্থান নেয়। তাদের উপস্থিতিতে পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে ঘণ্টাখানেক সময় ধরে অবরুদ্ধ থাকেন।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী সদস্য সোহরাব খানের সঙ্গে দীঘিরপাড় ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য আসলাম হোসেন ভুলু হালদার ওরফে ভোলা মেম্বারের আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধ মীমাংসার নামে উভয়পক্ষকে বসার জন্য তদন্তকেন্দ্রে ডাকেন সেখানকার ইনচার্জ শাহআলম। এতে আগে থেকেই সাবেক ওই ইউপি সদস্য ও তার দুই ছেলে রিয়াম হালদার ও রিজভী হালদার পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে উপস্থিত থাকেন। এরপর দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সোহরাব খানকে মোবাইল ফোনে কল করে ডেকে আনেন তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ শাহআলম। একমাত্র ছেলে জনি খানও বাবার সঙ্গে ছিলেন। দীঘিরপাড় পুলিশ কেন্দ্রে প্রবেশ করতেই প্রতিপক্ষ সাবেক ইউপি সদস্য ভোলা মেম্বার ও তার দুই ছেলে তাদের ওপর হামলা করেন। তারা সোহরাব ও তার ছেলেকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করতে থাকেন। পরে স্থানীয়রা বাবা ও ছেলেকে উদ্ধার করে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহরাবকে মৃত ঘোষণা করেন ও ছেলে জনিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নূরে আলম সিদ্দিকী জানান, নিহতের মাথা ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আহত জনির মাথা, বুকে ও পেটে ধারালো অস্ত্রের কোপের আঘাত রয়েছে।
নিহতের ছোট ভাই মিজান খান দাবি করেন, পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। তা না হলে তদন্তকেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক শাহআলম কেন আমার ভাইকে ফোন করে একা তদন্ত কেন্দ্র আসতে বলবেন। পুলিশের সামনে আমার ভাই ও ভাতিজার ওপর হামলা করল। পুলিশও আমার ভাইকে ধাক্কা দিয়ে মাঠে ফেলে দিয়েছিল। তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জের সামনেই আমার ভাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন শ্রীনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল হোসেন সরকার। তিনি বলেন, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র কয়েকটি থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ইতিমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বেশ কয়েকজনের নাম জেনেছি। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় অভিযান শুরু করেছে।
তদন্তকেন্দ্রে সংঘটিত এ ঘটনার সঙ্গে ওই তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ শাহআলমের সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, এ বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। যদি পুলিশের কেউ জড়িত থাকে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
