সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ফৌজদারি অপরাধে কারাবাস: এক বছরে মুক্ত ৩৩ হাজার ৮০০ জন

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:১৬ পিএম
বিভিন্ন ফৌজদারি অপরাধের মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এবং কারাজীবন শেষে এক বছরে (২০২৩ সালে) মুক্ত জীবনে ফিরেছেন ৩৩ হাজার ৮শ’র বেশি বন্দি। এর মধ্যে সশ্রম কারাবাসে ছিলেন এমন বন্দিদের মধ্যে সাজা শেষ করে মুক্ত হয়েছেন ৪ হাজার ৬৬৩ জন। এছাড়া বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাবাস শেষ করেছেন ২৯ হাজার ১৮৯ জন। ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এসব বন্দি মুক্তি পেয়েছেন। সম্প্রতি কারা অধিদপ্তর থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। 
 
ফৌজদারি অপরাধ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধি ও বিশেষ কিছু আইনের ধারায় অভিযুক্ত আসামিকে অপরাধের গুরুত্ব ও গভীরতা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, আজীবন কারাবাস, যাবজ্জীবন, দশ বছর, পাঁচ বছর কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশের বিধান রয়েছে। 
 
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, বিচারিক আদালত কোনো আসামির জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠালে  আসামিকে বলা হয় হাজতি। গত বছর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন প্রায় ৪৫ হাজার হাজতি। অন্যদিকে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ, সাফাই সাক্ষ্য (আসামির পক্ষে), ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামির আত্মপক্ষ সমর্থণের সুযোগ পান। এরপর রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্কের শুনানির পর মামলার রায় হয়। অভিযোগ প্রমাণ সাপেক্ষে আসামির সাজা হলে আদালত তাকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে বলা হয় কয়েদি। 
 
আইন অনুযায়ী, সাজার ক্ষেত্রে সশ্রম ও বিনাশ্রম উভয় কারাদণ্ডাদেশের বিধান রয়েছে। তবে, দণ্ডবিধির বিধান অনুযায়ী যাবজ্জীবন সাজা সবসময়ই সশ্রম হয়। আর মৃত্যুদণ্ডের সাজা হয় বিনাশ্রম। এছাড়া অন্যান্য মেয়াদের সাজাতেও সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাবারের নির্দেশনা আসে আদালত থেকে। 
 
কারা অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছর সাজা শেষে সবচেয়ে বেশি বন্দি মুক্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন কারাগার থেকে। ওই বিভাগে মুক্ত বন্দির সংখ্যা ১ হাজার ৩৯ জন। আর সবচেয়ে কম ২২৬ জন বন্দি মুক্ত হয়েছেন সিলেট বিভাগে। এ ছাড়া ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন কারাগার থেকে ৭৫৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৩১ জন, রাজশাহীতে ৯৮৬ জন, রংপুরে ৭৫০ জন, খুলনায় ৪৩৩ জন এবং বরিশালের বিভিন্ন কারাগার থেকে মুক্ত হয়েছেন ২৪১ জন বন্দি। 
 
কারা কর্মকর্তারা বলেন, যেসব বিভাগে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি সেখানে অপরাধের প্রবণতা, সাজা বেশি এবং সঙ্গত কারণেই যেসব বিভাগের লোক সংখ্যা কম সেখানে বন্দি ও সাজাও তুলনামুলক কম পরিলক্ষিত হয়।   
 
কারা কর্মকর্তারা বলেন, সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের পুনরায় অপরাধ থেকে নিবৃত্ত করতে এবং তাদের পুনর্বাসনের লক্ষে কাপড় সেলাই, মোবাইল, কম্পিউটার, টেলিভিশন ও ইলেকট্রিক সামগ্রী মেরামতের কাজ, বাঁশ ও বেতের কাজ, পশুপালনের মতো কাজের প্রশিক্ষণের সুযোগ রয়েছে। সাজা শেষে বেরিয়ে যাওয়া মানুষেরা যাতে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন এবং পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে না পড়েন সেজন্যই এই ব্যবস্থা। সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে এবং কারা অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ‘প্রবেশন অ্যান্ড আফটার কেয়ার’ নামে এ কার্যক্রম চলে। 
 
বন্দিদের অনেকে ভাল আচরণ, বিশেষ দিবস, বয়স এসব নানা বিবেচনায় নির্দ্দিষ্টভাবে সাজা কিছু রেয়াত পান। তবে, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারে কোনো কাজ বা প্রশিক্ষণের সুযোগ নেই। তাদেরকে অন্য বন্দিদের থেকে পৃথক রাখা হয় কারাগারের বিশেষ কনডেম সেলে। বর্তমানে দেশের ৬৮ টি কারাগারে (১৩টি কেন্দ্রীয় ও ৫৫টি জেলা কারাগার) মৃত্যুদণ্ড, আমৃত্যু কারাবাস ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত বন্দির সংখ্যা ১৯ হাজার ৩৭২ জন। এর মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত নারী বন্দির সংখ্যা ৮৪৭ জন। 
 
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. শামীম ইকবাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাজাপ্রাপ্তদের অনেকে উচ্চ আদালতের রায়ে অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন। আবার অনেকে সাজা শেষ করে মুক্ত হয়েছেন। 
 
তিনি বলেন, বন্দিদের বড় অংশই গরীব ও দরিদ্র শ্রেণির। তারা মুক্ত হয়ে আবারও যাতে অপরাধে জড়িয়ে না যায়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হয়। তেমনি তারা যেন সমাজের মূলধারায় ফিরে আসতে পারেন সেজন্য প্রয়োজন পুনর্বাবাসন ও কাজের ব্যবস্থা। আর এ জন্যই কারাগারে তাদের বিভিন্ন কাজের বিশেষ প্রশিক্ষণের সুযোগ পান।
 
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত