সুপ্রিম কোর্টের পর নিম্ন আদালতেও স্বস্তি পেলেন না কেজরিওয়াল

আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ০৮:০২ পিএম

ভারতে সুপ্রিম কোর্টের পর দিল্লির রাউস এভিনিউ আদালতেও স্বস্তি পেলেন না মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ১৪ দিনের জেল হেফাজত শেষে সোমবার (১৫ এপ্রিল) আম আদমি পার্টির (আপ) প্রধানকে আদালতে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে হাজির করানো হয়। শুনানি শেষে বিচারক তার জেল হেফাজতের মেয়াদ ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত বৃদ্ধি করেন।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানিয়েছে, গত ২১ মার্চ আবগারি দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত কেজরিওয়ালের বাসভবনে তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। দুই দফায় ইডি হেফাজত শেষে ১ এপ্রিল দিল্লির আদালত কেজরিওয়ালকে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। সেই থেকে তিহাড় জেলেই রয়েছেন তিনি।

কেজরিওয়ালের গ্রেপ্তারি বেআইনি বলে দাবি তুলেছে আপসহ দেশের বিজেপিবিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। দিল্লি হাইকোর্টে এই মর্মে মামলাও করেন কেজরিওয়াল। আবগারি দুর্নীতি মামলায় গত ২১ মার্চ গ্রেপ্তার হওয়ার পরই গ্রেপ্তারিকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হন আপপ্রধান। গত ৯ এপ্রিল সেই মামলার শুনানিতে রায় দেওয়ার সময় দিল্লি হাইকোর্ট জানিয়েছিলেন, তার গ্রেপ্তারি বেআইনিভাবে হয়নি।

ইডি আদালতে জানিয়েছে, কেজিরওয়ালের বিরুদ্ধে তাদের হাতে প্রমাণ রয়েছে। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে আবগারি দুর্নীতি মামলার ‘মূলচক্রী’ হিসেবে দেখিয়েছে সংস্থাটি। এর পাশাপাশি তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাই গ্রেপ্তারিকে চ্যালেঞ্জ করে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী যে আবেদন করেছেন, তা ‘ধোপে টিকছে না’ বলেই হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ।

এ ছাড়া গত বুধবার মামলার শুনানিতে ইডি আদালতে জানিয়েছিল, আবগারি দুর্নীতি মামলায় আপের কিছু সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে চায় তারা। আবগারি দুর্নীতি মামলায় কেজরিওয়ালের ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়ে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি বলেও জানায় ইডি।

পাশাপাশি কেজরিওয়াল ইডির গ্রেপ্তারিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতে যে আবেদন করেছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইডির আইনজীবী। তিনি বলেন, এই আবেদন এমনভাবে করা হয়েছে, যেন এটি গ্রেপ্তার বাতিলের আবেদন নয়, জামিনের আবেদন।

সোমবার বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও দীপঙ্কর দত্তের ডিভিশন বেঞ্চে ওঠে কেজরিওয়ালের মামলা। তার পক্ষে আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি আদালতে যুক্তি দিয়ে বলেন, আগামী শুক্রবার এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আর্জি জানাচ্ছি। ইডির গ্রেপ্তারি ছিল নির্বাচনী প্রচার থেকে কেজরিওয়ালকে দূরে রাখার জন্য।

তবে বিচারপতি খান্নার বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, এত তাড়াতাড়ি মামলার তারিখ দেওয়া সম্ভব নয়। আগামী ২৭ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি। সেদিনই ইডিকে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

উল্লেখ্য, ভারতে ১৯ এপ্রিল থেকে শুরু হবে লোকসভা নির্বাচন। দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ হবে ২৬ এপ্রিল। তবে এই দুই দিনই জেলে বন্দি থাকবেন কেজরিওয়াল। কারণ তার গ্রেপ্তারি নিয়ে পরবর্তী শুনানি হবে আরও পরে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত