ফরিদপুরের মধুখালীতে পিটুনিতে নিহত দুই নির্মাণশ্রমিকের বাড়িতে গিয়ে তাদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা ও সমবেদনা জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী ফরিদুল হক খান। গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চোপেরঘাট গ্রামে নিহতদের বাড়িতে যান মন্ত্রী। এ সময় নিহত দুই ভাইয়ের বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দেন।
পরে চোপেরঘাট কবরস্থানে নিহতদের কবর জিয়ারত করেন মন্ত্রী। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মধুখালীর ডুমাইন ইউনিয়নের পঞ্চপল্লী গ্রামের একটি কালীমন্দিরে আগুন লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধরা পাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থানরত নির্মাণশ্রমিকদের ওপর হামলা চালায়। স্কুলের টয়লেট নির্মাণকাজের জন্য শ্রমিকরা সেখানে ছিলেন। হামলাকারীদের পিটুনিতে দুই শ্রমিক নিহত হন। তারা হলেন উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ঘোপেরঘাট গ্রামের শাহজাহান খানের ছেলে আশরাফুল (২১) ও তার ভাই আশাদুল (১৫)। এ ঘটনায় আহত আরও পাঁচ শ্রমিক চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গতকাল নিহত দুই শ্রমিকের কবর জিয়ারত শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটি জিনিস শুধু আপনাদের বলতে চাই, প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, প্রশাসনকেও প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে আপনাদের বলতে চাই ন্যায়বিচারের স্বার্থে যা কিছু করার দরকার আপনারা দ্রুততম সময়ে করবেন। এটি ন্যায়বিচার হোক। জনগণ দেখুক। এ ধরনের অপকর্ম যেন আর কেউ না ঘটাতে পারে। অন্য জায়গায় যেন এমন ঘটনা ঘটানোর সাহস তারা না পায়। তারা যেই হোক।’
বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক দেশ মন্তব্য করে ফরিদুল হক বলেন, ‘আমরা এ দেশে বসবাস করছি সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে। অপরাধী যেই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
এরপর ডুমাইন ইউনিয়নের পঞ্চপল্লী গ্রামের মন্দির ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী।
পরিদর্শন শেষে ফরিদপুরের উদ্দেশে রওনা দেন মন্ত্রী। বিকেল সাড়ে ৪টায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সম্প্রীতি রক্ষা কমিটির বিশেষ সভায় অংশ নেন তিনি।
