১৭ বছর বয়সেই দাবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ লড়াইয়ে গুকেশ

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৫০ পিএম

মাত্র ১৭ বছর বয়সেই বড় এক কীর্তি গড়ে ফেলেছেন ভারতের চেন্নাইয়ের ডোমারাজু গুকেশ। সর্বকনিষ্ঠ দাবাড়ু হিসেবে তিনি জিতেছেন ক্যান্ডিডেট টুর্নামেন্ট। ক্যান্ডিডেট টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়নই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের শিরোপার জন্য চ্যালেঞ্জ জানান বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নকে।

১২ বছর ৭ মাস ১৭ দিন বয়সে গ্র্যান্ডমাস্টার হওয়া গুকেশ এই বছরের শেষ দিকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য লড়বেন বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের ডিং লিরেনের বিপক্ষে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ের ভেন্যু এবং সূচি এখনও ঠিক হয়নি।

মোট ১৪ রাউন্ডের প্রতিযোগিতায় সম্ভাব্য ১৪ পয়েন্টের মধ্যে ৯ পয়েন্ট পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন গুকেশ। আমেরিকার গ্র্যান্ডমাস্টার হিকারু নাকামুরার সঙ্গে শেষ রাউন্ডে কালো ঘুঁটি নিয়ে গুকেশ ড্র করেন। এর আগে ফ্যাবিয়ানো করুয়ানা ও ইয়ান নেপমনিয়াচির ম্যাচ ড্র হওয়ার ফলে গুকেশের শেষ রাউন্ডে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য ড্রই প্রয়োজন ছিল।

বিশ্বনাথন আনন্দের পর দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে ক্যান্ডিডেট টুর্নামেন্ট জিতলেন গুকেশ। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আনন্দ ক্যান্ডিডেট টুর্নামেন্ট জিতেছিলেন ২০১৪ সালে।

গুকেশের আগে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে ক্যান্ডিডেট টুর্নামেন্ট জিতেছিলেন গ্যারি কাসপারভ ২২ বছর বসয়ে, ১৯৮৪ সালে। ৪০ বছর পর ভাঙল সেই রেকর্ড।

গুকেশ সপ্তম রাউন্ডে হেরেছিলেন ইরানের আলিরেজার কাছে। সেই হারের অনুপ্রেরণা খুঁজে নেন এই দাবাড়ু। আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন এবং চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেন। গুকেশ ক্যান্ডিডেট টুর্নামেন্ট জয়ের পর বলেন, 'টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখা এবং এগিয়ে যাওয়া আর সঠিক চালে দাবা খেলা। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে আমি এমনটি করার চেষ্টা করেছি।'

সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে ক্যান্ডিডেট টুর্নামেন্ট জেতা নিয়ে গুকেশ বলেন, 'দারুণ এক মুহূর্ত, আমি দারুণ খুশি এবং স্বস্তি বোধ করছি ক্যান্ডিডেট জিততে পারায়।'

গুকেশ জানিয়েছেন, তার হাতে খুব বেশি সময় নেই। তাই বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ম্যাচ নিয়ে খুব একটা পরিকল্পনায় যেতে চান না। ম্যাচ খেলা নিয়েই ভাবছেন তিনি।  

নাক, কান ও গলার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বাবা এবং অণুজীববিজ্ঞানী মায়ের সন্তান গুকেশের দাবায় হাতেখড়ি ৭ বছর বয়সে। দাবায় হাতেখড়ির ২ বছরের মধ্যেই প্রথম শিরোপা জেতেন।

২০২২ সালে হাংজুতে এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে রুপার পদক জিতেছিলেন তিনি। একই বছর আরেকটি কীর্তি গড়েন গুকেশ। সর্বকনিষ্ঠ দাবাড়ু হিসেবে তিনি হারিয়ে দেন ম্যাগনাস কার্লসেনকে। পরে কার্লসেন হয়েছিলেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।

এক্সে এক বার্তায় গুকেশকে নিয়ে আনন্দ লিখেছেন, ‘সর্বকনিষ্ঠ চ্যালেঞ্জার হওয়ার জন্য গুকেশকে অভিনন্দন। তোমার কীর্তিতে ডব্লুএসিএ চেস (ওয়েস্টব্রিজ আনন্দ চেস একাডেমি) পরিবার গর্বিত। যেভাবে তুমি খেলেছ আর কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছ, আমি ব্যক্তিগতভাবেও তোমাকে নিয়ে গর্বিত। মুহূর্তটা উপভোগ করো।’

আনন্দের অভিনন্দন বার্তা নিয়ে গুকেশ বলেন, 'তিনি (বিশ্বনাথন আনন্দ) আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, তার সঙ্গে এখনও কথা বলার সুযোগ হয়নি আমার। আশা করছি দ্রুতই তার সঙ্গে কথা হবে আমার।'

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত