চট্টগ্রামে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের স্টাফ ক্যামেরাপারসন সেলিম উল্লাহ। গতকাল রবিবার রাতে নগরীর মনসুরাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে সোমবার নগরীর নিমতলা এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার সাখাওয়াত আলম।
হামলার শিকার সেলিম উল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, রবিবার (২০ এপ্রিল) রাত সোয়া দশটার দিকে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় যুবলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেন ও তার অনুসারিদের সঙ্গে প্রতিপক্ষের সংঘর্ষ বাধে। তিনি ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাদ্দাম হোসেন এবং তার অনুসারিরা তার ওপর হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালাগালির একপর্যায়ে সেলিমকে ছুরিকাঘাতে হত্যার চেষ্টা চালায় । পরে স্থানীয়দের তৎপরতায় প্রাণে রক্ষা পান সেলিম। সন্ত্রাসীরা তার ভিডিও ধারণ করা মোবাইলটি ভেঙে ফেলে।
হামলার ঘটনায় রাতেই মামলা হয় ডবলমুরিং থানায়। এরপর ওসির নেতৃত্বে দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ। এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডবলমুরিং থানার ওসি ফজলুল কাদের পাটোয়ারী জানান, সাদ্দামসহ পলাতক অন্যদেরও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, সোমবার বিকেলে নগরীর বন্দর থানাধীন পশ্চিম নিমতলা এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন চট্টগ্রাম প্রতিদিনের স্টাফ রিপোর্টার সাখাওয়াত আলম। দেশ রূপান্তরকে তিনি জানান, সোমবার বিকেল পৌনে তিনটার দিকে পশ্চিম নিমতলা এলাকায় ওয়াসার পানি জব্দ করে বিক্রয় সংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরির ভিডিও ধারণ কালে জনৈক ইকবালের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার ওপর হামলা চালায়। এসময় তাকে গলা টিপে ধরে প্রাণনাশের চেষ্ঠা করা হয়। এ ঘটনায় বন্দর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়ন (সিইউজে) এর সভাপতি তপন চক্রবর্তী ও সাধারণ সম্পাদক ম. শামসুল ইসলাম এক বিবৃতিতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে চট্টগ্রামে দুই সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও জড়িত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দু’টি ঘটনাতেই সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি ফুটে ওঠেছে। যা সাংবাদিকতা পেশা ও কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য বড় ধরণের হুমকি স্বরূপ
