প্রচন্ড তাপপ্রবাহে চট্টগ্রামে বেড়েই চলেছে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে শিশু রোগীর চাপ। তাদের সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। গত ১০ দিনে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ১২ শিশু চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ডের দুটি ইউনিটে মারা গেছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান।
শামীম আহসান জানান, তীব্র গরমে সবচেয়ে কাহিল অবস্থা শিশুদের। শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায়। গত দশ দিনের ব্যবধানে ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১২ শিশু মারা গেছে। মারা যাওয়া শিশুদের বয়স সর্বোচ্চ তিন বছর। বৈশাখ মাস শুরুর আগে চমেকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু ভর্তির হার ছিল দৈনিক ১০ থেকে ১২ জন। এখন দাঁড়িয়েছে ১৫ থেকে ১৮ জন। একইভাবে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু ভর্তির হার ছিল ১৫ থেকে ১৮ জন। এখন দাঁড়িয়েছে ২২ থেকে ২৭ জনে। তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে চমেকের বহির্বিভাগে দশ দিনে চিকিৎসা নিয়েছে অন্তত ১৬০ রোগী। যাদের বেশিরভাগই শ্রমজীবী মানুষ।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সরেজমিনে এই হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, দুটি ওয়ার্ড শিশু রোগীতে ঠাসা। প্রায় শিশুর শরীরে চলছে স্যালাইন। তাদের চিকিৎসায় ব্যস্ত নার্স ও দায়িত্বরত চিকিৎসকরা। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ২২ নম্বর বেডে চিকিৎসা চলছে সাড়ে ৩ বছর বয়সী নাহিদুল ইসলাম জারিফের। হাতে ক্যানুলা। অপলক দৃষ্টিতে মায়ের দিকে তাকিয়ে একটু শান্তিই যেন খুঁজছে জ্বর নিয়ে ওই ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া শিশু জারিফ।
জারিফের মা রাশেদা বেগম জানান, পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভোগার পর তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে গত ২০ এপ্রিল সকালে জারিফকে ভর্তি করান চমেক হাসপাতালের এ ওয়ার্ডে। তার স্বামীর বাড়ি সীতাকুন্ড কুমিরা এলাকায়। চিকিৎসকরা বলেছেন, ‘প্রচন্ড গরমের কারণে আমার ছেলের নিউমোনিয়া হয়েছে। এখন কিছুটা সুস্থ। তবে কিছু খেলেই কাশি হচ্ছে।’
১০৩ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে গত ২০ এপ্রিল রাত ৮টায় একই ওয়ার্ডে (৯ নম্বর শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ) ভর্তি করা হয়েছে আনোয়ারা উপজেলার বুরুমছড়া এলাকার বিলকিছ আক্তারের দেড় মাস বয়সী নাতি মিসবাহকে। তাকে স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে শিশুটির অবস্থা আগের চেয়ে ভালো বলে জানিয়ে তার দাদি বিলকিছ আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নাতির ভালো চিকিৎসা চলছে। গরমের প্রভাবে নাতি মিসবাহ অসুস্থ হয়েছে।’
৯ নম্বর শিশু স্বাস্থ্য ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা জানান, ২১ এপ্রিল পর্যন্ত এই ওয়ার্ডে জ্বর, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশু ভর্তির সংখ্যা ছিল ১৮৪ জন। গতকাল নতুন করে ভর্তি করা হয়েছে আরও ৮৮ শিশুকে। এদের মধ্যে ১৫ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত। ৮ নম্বর শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্বরত নার্স মুনিয়া আক্তার জানান, এই ওয়ার্ডে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত শিশু ভর্তির সংখ্যা ছিল ৮৪ জন। গতকাল নতুন করে ভর্তি করা হয়েছে আরও ২৯ শিশু। যাদের বেশিরভাগই জ¦র, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত।
