প্রাইম ব্যাংকের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান পারভেজ হোসেন ইমন দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, গরমের মাঝে হেলমেট আর প্যাড গ্লাভস পরে ব্যাটিং করার কষ্টের কথা। সঙ্গে এটাও বলেছিলেন, পেশাদার ক্রিকেট খেলতে আসলে এসব প্রতিকূলতার সঙ্গে মানিয়ে নিতেই হবে। তবে তাপপ্রবাহের তীব্রতায় সোমবার থেকে শুরু হওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের সুপার লিগ পর্বে কমেছে রানের প্রবাহ। তিন ভেন্যুতে হয়ে যাওয়া তিনটি ম্যাচের দুটোতেই দলীয় ইনিংস ২০০ ছাড়ায়নি। ফতুল্লায় তিনটি সেঞ্চুরি হলেও রান উঠেছে মোটে ২৫০।
গ্রুপ পর্বে একই ভেন্যুতে আবাহনী-প্রাইম ব্যাংক ম্যাচে রান হয়েছিল ৬২৪ রান, সেখানে কাল দুই ইনিংস মিলে রান হলো ৩৬১। প্রাইম ব্যাংক আগে ব্যাট করে অলআউট ১৭৮ রানে। জবাবে আবাহনী এই রান তাড়া করে জিতল ৩৮.৩ ওভারে, ৫ উইকেট হাতে রেখে। জয়ের মাত্র ৪ রান দূরে থাকতে জাকের আলি অনিক আউট হয়ে গেলে উইকেটে আসেন স্পিনার তানভীর ইসলাম। কিছুক্ষণ উইকেটে সংগ্রাম করার পর ইমনের ঝুলিয়ে দেওয়া বলে ছক্কা মেরে আবাহনীর জয় নিশ্চিত করেছেন তানভীর। তাতে করে জয় দিয়ে সুপার লিগ শুরুর পাশাপাশি শিরোপার দিকে আরও একধাপ এগিয়ে গেল আবাহনী, আর দুটো ম্যাচ জিতলেই তারা ঘরে তুলবে শিরোপা।
শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে বোলিং নেন আবাহনীর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তাসকিন আহমেদ আগের ম্যাচের মতো এবারেও শুরুতেই বিদায় করেছেন তামিম ইকবালকে। আগের ম্যাচে তামিম দিয়েছিলেন স্লিপে ক্যাচ, এবারেও তাসকিনের বল খেলতে ভুগছিলেন। ৯ বলে করেছিলেন মাত্র ১ রান। ১০ বলটায় শেকল ছেড়ে বেরিয়ে আসতে চেয়ে উড়িয়ে মারতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ব্যাটে-বলে সংযোগ হয়নি ঠিকঠাক। তানভীরের হাতে শর্ট মিডউইকেটে ক্যাচ দিয়ে যখন আউট হলেন, প্রাইম ব্যাংকের রান তখন ৩ উইকেটে ৫! দুই ওপেনার, ইমন ০ ও তামিম ১ আর ওয়ানডাউনে নামা শাহাদাত হোসেন দীপু ৪! ৫ রানে ৩ উইকেট পতনের পর যেকোনো দলেরই রান তোলার গতিটা কমে আসে, পুরো ৫০ ওভার টিকে থাকাটাই তখন চ্যালেঞ্জ। জাকির হাসানের ৬৮ আর মুশফিকুর রহিমের ৪৪ রানে ইনিংস মেরামতের চেষ্টা ছিল, কিন্তু এই দুজনের বিদায়ের পর আর কেউ পারেননি রানটা বড় করতে। ৩৯.৩ ওভারে ১৭৮ রানে অলআউট প্রাইম ব্যাংক, ২৭ রানে ৩ উইকেট শরিফুল ইসলামের আর জোড়া শিকার তাসকিন, তানভীর ও মোসাদ্দেক হোসেনের। জবাবে লিটন দাসের ১০৬ বলে অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংসের সঙ্গে তাওহীদ হৃদয়ের ২৭ বলে ৫৫ রানের ইনিংসেই চলতি লিগে টানা ১২তম জয়ের দেখা পেয়েছে আবাহনী। নাজমুল হোসেন শান্ত ও এনামুল হক বিজয় করেছেন ২২ রান করে। ৩৮.৩ ওভারে ৫ উইকেট হাতে রেখে জিতেছে আবাহনী, ২৭ রানে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা শরিফুল। গরমে খেলা নিয়ে কোনো আপত্তিও জানাননি এই পেসার, ‘আপনারা দেখতে পারছেন অনেক গরম, এই গরমের মধ্যেই আমাদের খেলতে হবে, যেহেতু গরমের মধ্যেই খেলাটা চলছে। আমরা ওইভাবে চিন্তা করিনি যে এতটা গরম। চিন্তা করলে হয়তো আরেকটু বেশি গরম লাগত। দুই-তিন ওভার (বোলিং) করে একটু বের হয়ে আবার যাব (মাঠে ঢুকব), এভাবেই পরিকল্পনা করে খেলেছি।’ শিরোপা প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় সামনের ম্যাচে বিশ্রামে থাকবেন তাসকিন ও শরিফুল এমনটাই জানালেন এই পেসার।
ফতুল্লায় মোহামেডান-শেখ জামাল ম্যাচে হয়েছে তিন সেঞ্চুরি। তবে রান তোলার গতি ছিল ধীর। সাইফ হাসান ১২০ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন, কিন্তু খেলেছেন ১৪৬ বল। তাইবুর রহমান ১০২* রানের ইনিংস খেলেছেন ১১৪ বলে। তাই তো ৫০ ওভারে শেখ জামালের সংগ্রহটা ২ উইকেট হারিয়েও ২৫৯ রানের বেশি হয়নি। মোহামেডানের একমাত্র উইকেট শিকারি নাসুম, আউট করেছেন সৈকত আলীকে। আউট হওয়া আরেক ব্যাটসম্যান ফজলে রাব্বি হয়েছেন রানআউট।
মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের ১০১ রানের ইনিংসের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহর দৃঢ়তাপূর্ণ ৮৮ বলে ৮৭* রানের ইনিংসে ভর করে ২ বল হাতে রেখে ম্যাচটা জিতেছে মোহামেডান। সেঞ্চুরিয়ান অঙ্কনই হয়েছেন ম্যাচসেরা।
রান হয়নি বিকেএসপিতেও। শাইনপুকুর-গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্সের ম্যাচ দুই ইনিংস মিলিয়ে স্থায়ী হয়েছে মাত্র ৬২ ওভার! ৩৪.৫ ওভারে ১৩৮ রানেই অলআউট শাইনপুকুর। সর্বোচ্চ ৪২ রান তানজিদ হাসান তামিমের এই রানটা করতে গিয়ে ২৭.৪ ওভারে ১২৫ রানে অলআউট গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স। সর্বোচ্চ ৪৪ রান হাবিবুর রহমান সোহানের, শাইনপুকুরের হয়ে ব্যাটে-বলে উজ্জ্বল রিশাদ হোসেন, ২৬ বলে ৩৩ রানের ইনিংসের পর বোলিংয়ে ৩১ রানে ৪ উইকেট। ম্যাচসেরার পুরস্কারটা উঠেছে এই লেগস্পিনারের হাতেই।
