বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তীব্র দাবদাহ: কুয়াকাটায় বাতিল হচ্ছে হোটেল বুকিং

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২৪, ০২:০৫ পিএম

অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে নাজেহাল জনজীবন, ঘর থেকে বের হতে পারছে না মানুষ। শুধু তা-ই নয় পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরাও বাতিল করছেন অগ্রিম বুকিং দেওয়া হোটেল-রিসোর্টের কক্ষ। আবার কেউ কেউ কুয়াকাটায় দু-তিন দিন থাকার জন্য এসে গরমের দাপটে ফিরে যাচ্ছেন একদিন থেকেই। এতে কাঙ্ক্ষিত পর্যটক পাচ্ছেন না পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

আবহাওয়া অফিস বলছে- আরও একসপ্তাহে অপরিবর্তিত থাকতে পারে বর্তমান অবস্থা।

আজ মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) কুয়াকাটার বেশ কয়েকটি হোটেলের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদপরবর্তী লম্বা একটি সময় কুয়াকাটাতে পর্যটকদের আগমনে সরগরম থাকে তবে প্রতিবছরের চেয়ে এই ঈদের পরপরই অসংখ্য পর্যটকদের আগমন থাকলেও হঠাৎ পর্যটকে ভাটা পড়ে। আর অতিরিক্ত দাবদাহের কারনে আগত পর্যটকরা দ্রুত চলে যাচ্ছে এবং অগ্রিম বুকিং করা পর্যটকরা পরিবারের শিশু-বৃদ্ধদের চিন্তা করে বুকিং বাতিল করছে বলে নিশ্চিত করেছেন কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ।

তিনি আরও জানান, প্রতিটি ঈদের পরে আমরা প্রথম সপ্তাহ পুরোপুরি বুকিং পাই, দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫০-৭০ শতাংশ বুকিং থাকে এভাবে কমপক্ষে ১৫ দিন আমরা পর্যটকদের সরগরমে ব্যস্ত থাকি তবে এই ঈদের পরে ৩-৪ দিন ভালো পর্যটক পেলেও হঠাৎ সেই পর্যটকদের অবস্থা ২০-৩০ শতাংশে চলে এসেছে। বর্তমানে তাপমাত্রার এমন অবস্থা যে আমাদের নিজেদেরই কষ্ট হয়ে যাচ্ছে সেখানে পর্যটকদের অবস্থাতো আরও খারাপ।

বরিশাল থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মো. শাহ আলম জানান, আমি তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে কুয়াকাটায় এসেছি ২-৩ দিন থাকতে চেয়েছি কিন্তু আজকে একদিন থাকার পরে মনে হচ্ছে না যে কালকে আর থাকা হবে না কারণ সবাইতো আর এসি রুম নিয়ে থাকতে পারে না। আর বেড়াতে এসে সব জায়গায় ঘোরাঘুরি করব কিছুই হচ্ছে না। এখনও সৈকতের বালুতে বসে আছি আর আইসক্রিম খাচ্ছি।

হোটেল সমুদ্র বাড়ি রিসোর্টের পরিচালক নজরুল ইসলাম সজিব জানান, আমাদের হোটেলে ঈদের পরে বেশ ভালো অগ্রিম বুকিং পেয়ে থাকি তবে প্রতিবছর ঈদপরবর্তী এমন সময়ে হোটেলের প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ কক্ষ বুকিং থাকে কিন্তু এবছর মাত্র ১০ শতাংশ বুকিং আছে। গত দুই দিন আগে বুকিং দেওয়া ৪টি রুম দুটি পরিবার আজকে বাতিল করেছে। তারা বলছে, 'অতিরিক্ত গরমের কারণে তারা শিশু ও পরিবারের লোকজন নিয়ে নিরাপদ মনে না করায় বুকিং বাতিল করেছে।'

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) সেক্রেটারি জেনারেল জহিরুল ইসলাম জানান, মূলত ঈদপরবর্তী সময়কে আমরা পর্যটক মৌসুমের একটি বড় সময় ধরে থাকি। তবে এ বছর মৌসুমে পর্যটক আসা শুরু করলেও অতিরিক্ত তাপমাত্রা সবকিছু এলোমেলো করে দিয়েছে। কুয়াকাটায় প্রায় ২০০ আবাসিক হোটেল-রিসোর্ট রয়েছে, তার মধ্যে ৪০-৫০ শতাংশ হোটেলে কক্ষে এসি থাকে। সব পর্যটকরা তো আবার এসিতেও থাকে না। সব মিলিয়ে এই পর্যটক কমে যাওয়া ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় ক্ষতির কারণ।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র আবহাওয়া পর্যবেক্ষক মো. জিল্লুর রহমান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গত কয়েকদিন যাবৎ এর আশপাশে অবস্থান করছে তাপমাত্রা। আগামী আরও এক সপ্তাহ এ অবস্থা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তাই তাপমাত্রা না কমা পর্যন্ত সকলকে সাবধানে থাকার পরামর্শ তাদের।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে আমরা পর্যটকদের বারবার মাইকিং করে সাবধানে থাকতে বলছি। এছাড়াও আমাদের সদস্য বাড়তি নজরদারি রাখছে যাতে কোনো পর্যটক অসুস্থ হলেও দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত