কুসংস্কারের শিকার ২৮% যক্ষ্মা রোগী

আপডেট : ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:১৮ এএম

দেশে ২৮ শতাংশ যক্ষ্মা রোগী এখনো নানা ধরনের সামাজিক কুসংস্কার বা স্টিগমার শিকার হচ্ছে বলে এক সমীক্ষায় এসেছে। সমীক্ষায় বলা হয়েছে, এসব রোগী চিকিৎসা গ্রহণকালে সময় জুড়ে এই কুসংস্কারের মুখোমুখি হচ্ছে। এমনকি যক্ষ্মার কারণে বিভিন্ন সামাজিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছে যক্ষ্মা রোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এনটিপি) ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যৌথভাবে এই সমীক্ষা পরিচালনা করে। রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকা জেলার শহর ও গ্রামীণ এলাকায় ‘বাংলাদেশে যক্ষ্মা-সম্পর্কিত স্টিগমার অবস্থা’ শীর্ষক এই সমীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর আইসিডিডিআর,বির সাসাকাওয়া মিলনায়তনে এক সেমিনারে সমীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।

সমীক্ষায় দেখা গেছে, যক্ষ্মা রোগীর পরিবারের প্রায় ২২ শতাংশ সদস্য ওই যক্ষ্মা রোগীর কারণে নিজেরাও স্টিগমার বা কুসংস্কারের সম্মুখীন হয়। বাড়িতে স্টিগমার শিকার হয় ১৪ শতাংশ যক্ষ্মা রোগী ও তাদের পরিবারের ১১ শতাংশ।

সমীক্ষায় উঠে এসেছে, যক্ষ্মা-সংক্রান্ত স্টিগমা নারীদের বেশি প্রভাবিত করে। এতে সামাজিকভাবে অসম্মান, হয়রানি ও আর্থিক অসুবিধায় পড়ে তারা।

আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. সায়েরা বানুর পরিচালনায় আইসিডিডিআর,বির পাবলিক প্রাইভেট মিক্সের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার নাদিম রেজা, সিনিয়র স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিসার তানজিনা রহমান ও রিসার্চ অফিসার তামান্না সুলতানা গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন।

সেমিনারে আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ বলেন, ‘একসময় মানুষ যক্ষ্মা নিয়ে কথা বলতে ভয় পেত। তবে এখন দেশের যেকোনো প্রান্তে গেলেই যক্ষ্মার নাম শোনা যায়। যক্ষ্মার কঠিন চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করতে হলে আমাদের এভাবেই যৌথভাবে কাজ করে যেতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত